মেহেরপুরে তিন মাদ্রাসা ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগ

মেহেরপুরের মুজিবনগরে একটি মাদ্রাসায় তিন ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে মাদ্রাসা ও থানা—উভয় স্থানে বিক্ষোভ, ঘেরাও এবং পাল্টাপাল্টি উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাদ্রাসার অভ্যন্তরে অনিয়ম ও নির্যাতনের অভিযোগ থাকলেও তা গোপন রাখা হচ্ছিল।

ঘটনা কোথায় ও কীভাবে ঘটে

বৃহস্পতিবার রাতে মুজিবনগর উপজেলার কেদারগঞ্জ বাজার এলাকায় অবস্থিত “মুজিবনগর আইডিয়াল মাদ্রাসা ও দারুল হিফজখানা বোর্ডিং”-এ এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। বোর্ডিংয়ে থাকা তিন ছাত্রের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ জানাজানি হওয়ার পরপরই এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের দাবি, খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে শত শত মানুষ মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে ঘেরাও কর্মসূচি শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার উপক্রম হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

অভিযোগ, মামলা ও গ্রেপ্তার

এক ভুক্তভোগী শিশুর বাবা বাদী হয়ে মুজিবনগর থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলায় মাদ্রাসার আরবি শিক্ষক নূর উদ্দিনকে প্রধান আসামি করা হয়। অভিযোগের পরপরই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে এবং পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

গ্রেপ্তারকৃত নূর উদ্দিন নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলা উপজেলার টেংগাচোড়া গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে বলে জানা গেছে।

ভুক্তভোগীদের বক্তব্য ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার দাবি করে, তাদের ১০ বছর বয়সী সন্তান হিফজ বিভাগে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। ঘটনার রাতে অন্য এক অভিভাবকের কাছ থেকে খবর পেয়ে তারা মাদ্রাসায় গিয়ে সন্তানকে উদ্ধার করেন।

শিশুটি তার পরিবারের কাছে অভিযোগ করে জানায়, বোর্ডিংয়ের শিক্ষক নূর উদ্দিন তাকে ও আরও দুই ছাত্রকে গভীর রাতে রুমে ডেকে নিয়ে “অনৈতিক কাজ” করতেন এবং ঘটনার দিনও একাধিকবার নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

জনরোষ ও থানা ঘেরাও

ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা বাজার থেকে ফেরার পথে মাদ্রাসার দিকে লোকজনকে দৌড়াতে দেখেন এবং পরে বিষয়টি জানতে পারেন। দ্রুতই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং হাজারো মানুষ মাদ্রাসা ঘেরাও করে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক কর্মী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মাদ্রাসা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এবং পরবর্তীতে পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

এরপর বিক্ষোভকারীরা দোষীদের শাস্তির দাবিতে মুজিবনগর থানা ঘেরাও করেন।

প্রশাসনের বক্তব্য ও বিভ্রান্তি

মুজিবনগর থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগী শিশুদের উদ্ধার করে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ২২ ধারায় রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে মাদ্রাসার মালিকানা ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে নানা বক্তব্য সামনে এসেছে। কেউ কেউ দাবি করেন এটি একটি রাজনৈতিক দলের নেতার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান, আবার অন্য পক্ষ তা অস্বীকার করেছে।

মাদ্রাসা ও স্থানীয় ব্যাখ্যা

মাদ্রাসার এক শিক্ষক সোহেল রানা দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক নেতার সরাসরি মালিকানা নেই। তার মতে, পরিচালনার দায়িত্ব অন্য একটি পারিবারিক কমিটির হাতে রয়েছে এবং অভিযোগ প্রকাশের পরপরই প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সংক্ষিপ্ত ঘটনাপ্রবাহ

বিষয় বিবরণ
ঘটনা তিন ছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগ
স্থান মুজিবনগর, মেহেরপুর
প্রতিষ্ঠান আইডিয়াল মাদ্রাসা ও দারুল হিফজখানা বোর্ডিং
অভিযুক্ত আরবি শিক্ষক নূর উদ্দিন
আইনগত ব্যবস্থা গ্রেপ্তার ও কারাগারে প্রেরণ
প্রতিক্রিয়া মাদ্রাসা ও থানা ঘেরাও, বিক্ষোভ

শেষ পরিস্থিতি

ঘটনার পর এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছেন। অন্যদিকে প্রশাসন জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন এবং কোনো অপরাধী ছাড় পাবে না।

সব মিলিয়ে, মেহেরপুরের এই ঘটনা স্থানীয় সমাজে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।