রাজধানীর কদমতলী এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে শারমিন আক্তার (২৭) নামের এক নারী আনসার সদস্যের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গতকাল রোববার বিকেলে স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে মরদেহের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
পুলিশের ধারণা, ওই নারীকে হত্যা করে কক্ষটি বাইরে থেকে তালা দিয়ে পালিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাস্থল ও উদ্ধার প্রক্রিয়া
কদমতলী থানার উপপরিদর্শক মুশাহিদুল ইসলাম জানান, জুরাইন কমিশনার সড়ক এলাকার একটি বহুতল ভবনের চতুর্থ তলায় শারমিন আক্তার বসবাস করতেন। ৯৯৯ নম্বরে জরুরি সেবা লাইনে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কক্ষের দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ এবং ভেতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হচ্ছে।
পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে মেঝেতে পড়ে থাকা অবস্থায় শারমিনের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়।
পরিচয় ও পারিবারিক তথ্য
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহের কাছ থেকে একটি পরিচয়পত্র উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে শারমিন আক্তারকে আনসার সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা আছে। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা ঢাকার শ্যামপুর এলাকার পূর্ব ধোলাইপাড়। ঘটনার পর থেকে তাঁর সঙ্গে থাকা কথিত স্বামী পরিচয়ধারী ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে বাড়ির মালিকপক্ষ।
বাড়ির মালিক আঞ্জুয়ারা ডলি জানান, প্রায় সাত থেকে আট মাস আগে শারমিন ও এক ব্যক্তি দম্পতি পরিচয়ে বাসাটি ভাড়া নেন। তবে ওই ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানেন না।
তদন্ত ও পরবর্তী পদক্ষেপ
ঘটনার পর পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে আশা করছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া পুলিশ নিখোঁজ থাকা কথিত স্বামীর পরিচয় শনাক্ত ও অবস্থান নির্ধারণের চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার সারসংক্ষেপ
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নিহতের নাম | শারমিন আক্তার |
| বয়স | ২৭ বছর |
| পেশা | আনসার সদস্য |
| ঘটনাস্থল | জুরাইন কমিশনার সড়ক, কদমতলী |
| মরদেহ উদ্ধারের সময় | রোববার বিকেল |
| মরদেহের অবস্থা | গলিত ও আঘাতের চিহ্নযুক্ত |
| প্রাথমিক ধারণা | হত্যাকাণ্ড |
| পরবর্তী পদক্ষেপ | ময়নাতদন্ত ও তদন্ত অব্যাহত |
স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এ ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, ঘটনার রহস্য উদঘাটনে একাধিক দিক থেকে তদন্ত চলছে এবং দ্রুতই প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা করা হবে।



