চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে অবসরপ্রাপ্ত এক সহকারী পুলিশ সুপারের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। মুখোশ পরা ১০ থেকে ১২ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল ঘরের দরজা ভেঙে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। পরে আলমারি ও পরিবারের নারীদের পরনে থাকা স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ১৭ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় তারা। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের মধ্যম ওয়াহেদপুরের শেখেরতালুক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ডাকাতির খবর পেয়ে রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন মীরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে এ ঘটনায় প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়ের হয়নি।
ভুক্তভোগী অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার (সশস্ত্র) মতিন উল্লাহ জানান, রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে একদল মুখোশধারী ডাকাত তাঁদের বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় তারা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকে এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে ফেলে। এরপর বাড়ির বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে মূল্যবান জিনিসপত্র সংগ্রহ করতে থাকে।
মতিন উল্লাহর ভাষ্য অনুযায়ী, ডাকাতেরা বাড়ির আলমারিতে থাকা মালামালের পাশাপাশি পরিবারের নারীদের পরনে থাকা স্বর্ণালংকারও নিয়ে যায়। লুট হওয়া স্বর্ণালংকারের পরিমাণ ৫ ভরি ৮ আনা। এ ছাড়া তারা দুটি অ্যান্ড্রয়েড মুঠোফোন, একটি বাটন মুঠোফোন, সিসিটিভি ক্যামেরার মনিটর ডিভাইস, একটি ওয়াই-ফাই রাউটার এবং কম্পিউটারের বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে যায়।
লুট হওয়া কম্পিউটারসামগ্রীর মধ্যে রয়েছে একটি মনিটর ও একটি সিপিইউ। ডাকাতেরা বাড়ি থেকে নগদ ৪০ হাজার টাকাও নিয়ে যায়। সব মিলিয়ে লুট হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৭ লাখ টাকা বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ
ঘটনার পর স্থানীয় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। নিজামপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ বিপুল কর্মকার জানান, শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে ডাকাতির খবর পাওয়ার পর তাঁরা ঘটনাস্থলে যান। এ সময় মীরসরাই থানার ওসি ফরিদা ইয়াসমিনও উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ কর্মকর্তা বিপুল কর্মকার বলেন, ডাকাতির ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
অন্যদিকে, ভুক্তভোগী মতিন উল্লাহ জানিয়েছেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মামলা হলে লুট হওয়া মালামালের বিবরণ, ডাকাতদের প্রবেশ ও পালানোর পদ্ধতি এবং ঘটনার অন্যান্য দিক তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ
রাতের গভীরে একটি বাড়িতে দলবদ্ধভাবে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করার এ ঘটনা এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে, মুখোশ পরা একাধিক ব্যক্তির অংশগ্রহণ এবং পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি ডাকাতির ঘটনার গুরুত্ব বাড়িয়েছে।
তবে ডাকাতেরা কীভাবে বাড়িতে প্রবেশ করেছে, তাদের ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন কী ছিল এবং তারা কোন পথে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছে—এসব বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে, ঘটনার সময় পরিবারের সদস্যদের কেউ শারীরিকভাবে আহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
এ ধরনের অপরাধের তদন্তে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ঘটনাস্থলের আলামত এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ ঘটনায় বাড়ির সিসিটিভি ব্যবস্থার মনিটর ডিভাইস নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন ভুক্তভোগী। তবে এর ফলে কোনো ফুটেজ নষ্ট হয়েছে বা তদন্তে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে কি না, তা এখনো জানা যায়নি।
পুলিশের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত থাকার কথা জানানো হয়েছে। এখন তদন্তের মাধ্যমে ডাকাত দলের সদস্যদের পরিচয়, লুট হওয়া মালামালের অবস্থান এবং ঘটনার পেছনে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা নির্ধারণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।


