খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৭ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি লক্ষ্য করা গেছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত ৫ আগস্ট থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত রাউজানে মোট ২৩টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সন্ত্রাসবাদ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।
সোমবার (২৭ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খান।
পুলিশ সুপারের বক্তব্যে রাউজানে ঘটে যাওয়া এই ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ উঠে এসেছে। তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, অপরাধের ধরন ও প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই অধিকাংশ সহিংসতা ঘটছে। সংবাদ সম্মেলনে উল্লিখিত সম্ভাব্য কারণসমূহ নিচে দেওয়া হলো:
আধিপত্য বিস্তার: স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা।
অবৈধ দখলদারিত্ব: বালুমহাল দখলকে কেন্দ্র করে স্বার্থান্বেষী মহলের সংঘাত।
প্রাকৃতিক সম্পদ লুণ্ঠন: পাহাড় কাটা ও অবৈধভাবে মাটি কাটার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ।
চাঁদাবাজি: ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক নিপীড়ন ও বখরা আদায়।
পুলিশ সুপার স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে, অপরাধের কারণ যাই হোক না কেন, অপরাধীকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধীদের কোনো দলীয় বা গোষ্ঠীগত পরিচয় পুলিশের কাছে মুখ্য নয়; বরং তাদের কেবল অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।
রাউজানে অতি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দুটি লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। গত শনিবার চট্টগ্রামের রাউজানে কাউসার জামান বাবুল নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর রেশ কাটতে না কাটতেই গত রবিবার রাত ৯টার দিকে লেংগা বাইল্যার ঘাটা এলাকায় নাছির উদ্দিন নামে অপর এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।
এই দুই হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষিতে পুলিশি তৎপরতার একটি সংক্ষিপ্ত সারণি নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| সর্বশেষ নিহতের সংখ্যা | ০২ জন (কাউসার জামান বাবুল ও নাছির উদ্দিন) |
| আটককৃত সংখ্যা | প্রধান সন্দেহভাজনসহ মোট ০৫ জন |
| নিরাপত্তা ব্যবস্থা | অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন ও চেকপোস্ট স্থাপন |
| বিশেষ নজরদারি | পাহাড়ি ও দুর্গম অঞ্চলসমূহ |
| তদন্তের স্থিতি | নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও আইনি কার্যক্রম চলমান |
সংবাদ সম্মেলনে এসপি নাজির আহমেদ খান রাউজান ও প্রতিবেশী উপজেলা রাঙ্গুনিয়ার আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এসব এলাকায় সন্ত্রাসীদের কোনো প্রকার কার্যক্রম আর বরদাশত করা হবে না। মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায় এমন কর্মকাণ্ড নির্মূল করতে পুলিশ বদ্ধপরিকর।
তিনি চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরের উদাহরণ টেনে বলেন, একসময় জঙ্গল সলিমপুর সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত ছিল, যা বর্তমানে পুলিশি তৎপরতায় সন্ত্রাসমুক্ত করা হয়েছে। একইভাবে রাউজানসহ জেলার চিহ্নিত সন্ত্রাসপ্রবণ এলাকাগুলোতে গত রাত থেকে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। অভিযানের মাত্রা পর্যায়ক্রমে আরও বৃদ্ধি করা হবে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোতে অপরাধীদের যাতায়াত ও অস্ত্র চোরাচালান রোধে স্থায়ী ও অস্থায়ী চেকপোস্টের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।
পুলিশ সুপার আশ্বাস প্রদান করেন যে, প্রতিটি অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অপরাধীদের গ্রেফতার এবং অস্ত্র উদ্ধারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারে।