চর কানাপাড়া ঈদগাহে ইমাম নিয়ে বিরোধে দুই জামাতের সিদ্ধান্ত

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার চর আষাড়িয়াদহ ইউনিয়নের চর কানাপাড়া ঈদগাহকে কেন্দ্র করে ইমাম সংক্রান্ত বিরোধে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ বিরোধের কারণে এলাকাবাসী দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার জামাতকে ঘিরে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা সংঘর্ষের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদগাহের ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ ইসলামিক ফাউন্ডেশনে কর্মরত থাকার পাশাপাশি মাজহারুল উলুম ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদরাসার প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর অবস্থানকে কেন্দ্র করেই মূলত বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে বলে স্থানীয়দের একটি অংশ দাবি করে।

একাংশের অভিযোগ, ইমাম অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয় এবং পরবর্তীতে তা দ্বন্দ্বে রূপ নেয়। গত ঈদুল আজহার সময়েও এ বিরোধের প্রভাব পড়ে, যার ফলে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিক দফা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় বাসিন্দা পিয়ারুল ইসলাম বলেন, এবার ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দুইটি পৃথক জামাত আয়োজন করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, একটি পক্ষ মোহাম্মদ উল্লাহর অনুসারী এবং তারা এক জামাতে নামাজ আদায় করবে, অন্য পক্ষ পৃথক জামাতে অংশ নেবে। তিনি আরও দাবি করেন, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত কারণেই তারা তাঁর পেছনে নামাজ আদায় না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এছাড়া অতীতের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট ধর্মীয় ব্যক্তিত্বের গায়েবানা জানাজা পড়তে না দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও অসন্তোষ রয়েছে।

অন্যদিকে ইমামের সমর্থক স্থানীয় বাসিন্দা প্রফেসর সানাউল্লাহ অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, মাদরাসা দখলের উদ্দেশ্যেই ইমামকে অপসারণের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মোহাম্মদ উল্লাহ স্থানীয় ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন এবং অধিকাংশ মুসল্লি তাঁর পেছনে নামাজ আদায় করতে চান।

অভিযোগের বিষয়ে হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ সব ধরনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তিনি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের মিছিল বা সভায় অংশ নেননি। দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে তিনি ওই ঈদগাহে ইমামতি করে আসছেন এবং সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি আরও বলেন, প্রশাসন যদি তাঁকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত থাকতে বলে, তবে তিনি তা মেনে নেবেন; তবে জোরপূর্বক বাধা দেওয়া হলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে।

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন দুইটি পৃথক ঈদ জামাত আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গোদাগাড়ী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শামসুল ইসলাম জানান, দুই পক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেও সমঝোতা সম্ভব হয়নি। ইউনিয়ন পর্যায়ে সমাধান না হওয়ায় উপজেলা প্রশাসন দুইটি জামাত নির্ধারণ করেছে। একটি সকাল সাড়ে ৭টায় এবং অপরটি সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে।

গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবিও দায়িত্ব পালন করবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।