বরগুনার সদর উপজেলায় এক চাঞ্চল্যকর ও নৃশংস ঘটনায় এক মৌসুমি ব্যবসায়ীর মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। রক্তের দাগ ও জুতার চিহ্ন অনুসরণ করে স্থানীয়রা ও স্বজনরা খালের পানিতে তল্লাশি চালিয়ে মরদেহটির সন্ধান পান। ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত ব্যক্তি মো. শামীম ব্যাপারী (আনুমানিক ৪০), বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না গ্রামের মোনসের আলী ব্যাপারীর ছেলে। তিনি পেশায় একজন মৌসুমি ব্যবসায়ী ছিলেন এবং স্থানীয় বাজারে ছোটখাটো পণ্য বেচাকেনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।
নিহতের পরিচয় সংক্রান্ত তথ্য
| বিষয় |
তথ্য |
| নাম |
মো. শামীম ব্যাপারী |
| বয়স |
আনুমানিক ৪০ বছর |
| পিতার নাম |
মোনসের আলী ব্যাপারী |
| পেশা |
মৌসুমি ব্যবসায়ী |
| গ্রাম |
গৌরীচন্না |
| এলাকা |
বরগুনা সদর উপজেলা |
নিখোঁজ থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা
পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, গত রবিবার সন্ধ্যার পর শামীম ব্যাপারী বাসায় ফেরেননি। রাত গভীর হয়ে গেলেও তিনি ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। তবে কোথাও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
পরদিন সোমবার সকালে বাড়ির সামনে খালের পাড়ে রক্তের দাগ দেখতে পান স্থানীয়রা। পাশাপাশি শামীমের একটি জুতা ও পরে আরও একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখা যায়। এই চিহ্ন দেখে সন্দেহ বাড়লে স্থানীয়রা খালের পানিতে তল্লাশি শুরু করেন। এক পর্যায়ে কচুরিপানার নিচ থেকে তার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে বরগুনা সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহটি আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
মাথা উদ্ধারে অভিযান
মরদেহ উদ্ধারের পরও নিহতের মাথার সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে অগ্নিসেবা বাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে খাল ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। তবে তল্লাশি চালিয়েও মাথার কোনো সন্ধান মেলেনি। বর্তমানে ওই এলাকায় পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পরিবারের দাবি ও শোক
নিহতের স্ত্রী ও সন্তানরা জানান, শামীমের কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা ছিল না বলে তারা জানতেন। তার এমন নৃশংস মৃত্যুতে তারা হতবাক ও ভেঙে পড়েছেন। তারা দ্রুত হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিহতের বাবা মোনসের আলী ব্যাপারী বলেন, খালের পাড়ে রক্তের দাগ ও জুতা দেখে তারা প্রথমে সন্দেহ করেন। পরে খালে নেমে কচুরিপানার নিচে ছেলের মরদেহ দেখতে পান। তিনি হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের নৃশংস ঘটনা এলাকায় বিরল এবং এটি সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির পেছনের কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য