খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ই জুন ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিং করছে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। ঢাকার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ দল নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৭৪ রান সংগ্রহ করে। ফলে অস্ট্রেলিয়ার সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৭৫ রান। এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তরুণ ওপেনার কুপার কনোলির অনবদ্য শতকের ওপর ভর করে অস্ট্রেলিয়া দল জয়ের দিকে এগোচ্ছে। নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১২তম ম্যাচে এসে প্রথম (মেইডেন) সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া দল ৩২.২ ওভারের খেলা শেষে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৮৭ রান সংগ্রহ করেছে। ক্রিজে কনোলি ১০৪ রানে এবং ক্যামেরন গ্রিন ২০ রানে অপরাজিত আছেন। অস্ট্রেলিয়ার জয়ের জন্য এখন ১০৬ বলে মাত্র ৮৮ রান প্রয়োজন।
২৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার কুপার কনোলি এবং জশ ইংলিস উড়ন্ত সূচনা করেন। উদ্বোধনী জুটিতে তারা দ্রুত ৪০ রান সংগ্রহ করেন। তবে বাংলাদেশ দলের পেসার শরীফুলের ইসলাম মাত্র ৩ বলের ব্যবধানে ২ উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম ধাক্কা দেন। শরীফুলের বলে ক্যাচ তুলে দিয়ে বিদায় নেন জশ ইংলিস। আউট হওয়ার আগে তিনি ১২ বলে ৪টি বাউন্ডারির সাহায্যে ২১ রান করেন। এরপর তিন নম্বরে ব্যাটিং করতে নেমে দ্বিতীয় বলেই বোল্ড হয়ে শূন্য রানে সাজঘরে ফেরেন ম্যাট রেনশ। ৪০ রানে ২ উইকেট পতনের পর ক্রিজে আসেন অ্যালেক্স ক্যারি। তবে দলীয় ৭০ রানের মাথায় সৌম্য সরকারের একটি অবিশ্বাস্য ক্যাচে পরিণত হয়ে ১৬ বলে মাত্র ৮ রান করে আউট হন ক্যারি।
চতুর্থ উইকেটে মার্নাস লাবুশেনকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরেন ওপেনার কুপার কনোলি। এই দুই ব্যাটসম্যান ৭৭ বলে ৬৪ রানের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেন। দলীয় ১৩৪ রানের মাথায় মার্নাস লাবুশেন ৪৫ বলে ২৩ রান করে আউট হলে অস্ট্রেলিয়া চতুর্থ উইকেট হারায়। লাবুশেনের বিদায়ের পর পঞ্চম উইকেটে ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গে জুটি বাঁধেন শতকধারী কনোলি। এই জুটিটি অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে অস্ট্রেলিয়াকে জয়ের সুনির্দিষ্ট গন্তব্যে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।
এর আগে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ দলের শুরুটা ভালো ছিল না। ইনিংসের প্রথম ওভারেই মাত্র ২ রান করে আউট হন ওপেনার সৌম্য সরকার। দ্বিতীয় উইকেটে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে ৫১ রানের জুটি গড়েন আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। তানজিদ ১৯ রান করে আউট হওয়ার পর অধিনায়ক শান্তও ৫০ বলে মাত্র ২৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন। মাত্র ৬১ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর লিটন কুমার দাস ও তাওহীদ হৃদয় চতুর্থ উইকেটে ১০৯ বলে ৯৫ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়েন। তবে দলীয় ১৫৩ রানের মাথায় লিটন দাস ৭৮ বলে ৪টি চার ও ২টি ছক্কায় ৫৮ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন। এরপর তাওহীদ হৃদয় ৮৮ বলে ৮টি বাউন্ডারির সাহায্যে ৮৩ রানের একটি দায়িত্বশীল ইনিংস খেলে দলীয় ২৪৬ রানে আউট হন। শেষ দিকে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ৫১ বলে ৫টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ৫১ রান করে অপরাজিত থাকলে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২৭৪ রান।
| ইনিংস ও দলের নাম | ব্যাটসম্যান / বোলারদের অবদান | মোট রান / ওভার | উইকেটের পতন |
| বাংলাদেশ (১ম ইনিংস) | তাওহীদ হৃদয় (৮৩), লিটন দাস (৫৮), মোসাদ্দেক সৈকত (৫১*) | ২৭৪ | ৫ (৫০ ওভার) |
| অস্ট্রেলিয়া (২য় ইনিংস) | কুপার কনোলি (১০৪*), জশ ইংলিস (২১), ক্যামেরন গ্রিন (২০*) | ১৮৭ | ৪ (৩২.২ ওভার) |
মন্তব্য