দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে: দুদক

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জানিয়েছে, দুর্নীতি ও পাসপোর্ট জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট মামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার আইনগত ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে মোট ছয়টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে একটির বিচারকার্য চলমান এবং বাকি পাঁচটির তদন্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আজ রবিবার (১৪ জুন, ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংস্থার উপপরিচালক (মিডিয়া) আকতারুল ইসলাম। তিনি জানান, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং সরকারি পদে থেকেও জালিয়াতির মাধ্যমে একাধিক বেসরকারি সাধারণ পাসপোর্ট গ্রহণ করার অভিযোগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

দুদকের মিডিয়া উইং থেকে জানানো হয়, বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের কাছে রেড নোটিশ জারির আবেদন করা হয়েছিল। এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির আনুষ্ঠানিক নির্দেশ প্রদান করেন। আদালতের নির্দেশনার পর ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারি করে এবং এরই ধারাবাহিকতায় গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ইন্টারপোলের সহায়তায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বর্তমানে তাঁকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হচ্ছে।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা ও আইনি অবস্থা:

মামলার বিবরণ অভিযোগের ধরন ও আর্থিক পরিমাণ বর্তমান আইনি অবস্থা
১ম মামলা ১৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল, বর্তমানে বিচার চলমান
অবশিষ্ট ৫টি মামলা প্রায় ৭৬ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন অনুসন্ধান শেষে বর্তমানে তদন্ত চলমান
পাসপোর্ট জালিয়াতি মামলা সরকারি কর্মকর্তা হয়েও তথ্য গোপন করে বেসরকারি পাসপোর্ট গ্রহণ তদন্তাধীন
সম্পদ জব্দকরণ আদেশ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ আদালতের নির্দেশে ক্রোক ও অবরুদ্ধকৃত

সংবাদ সম্মেলনে আকতারুল ইসলাম আরও উল্লেখ করেন, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আনীত ছয়টি মামলার মধ্যে একটি মামলায় ইতোমধ্যে সুনির্দিষ্ট অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়েছে, যেখানে ১৪ কোটি ৬২ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিবরণ রয়েছে। বাকি পাঁচটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আরও প্রায় ৭৬ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে, যেগুলোর তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসার পর গত বছর থেকে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পরবর্তীতে তাঁর ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক অনিয়মের অভিযোগে পর্যায়ক্রমে এসব মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে আদালতের নির্দেশনার প্রেক্ষিতে বেনজীর আহমেদ, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানদের নামে থাকা বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করা হয়েছে। জব্দকৃত সম্পদের মধ্যে রয়েছে রাজধানী ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, বিভিন্ন জেলায় শত শত বিঘা জমি, বাণিজ্যিক কোম্পানির শেয়ার, ব্যাংক ব্যালেন্স এবং সঞ্চয়পত্র।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের পর আসামিকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করার জন্য দুই দেশের বিদ্যমান আইনি ও কূটনৈতিক চ্যানেল ব্যবহার করা হচ্ছে। সরকার আশা করছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে তাঁকে দেশে এনে আদালতের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে। উল্লেখ্য, বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।