ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় নয় বছরের এক শিশুর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে। তিন দিন পার হয়ে গেলেও এখনো তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজ চালানো হলেও কোনো সাফল্য মেলেনি। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নিখোঁজ শিশুর নাম সামিউল মল্লিক (৯)। সে সদরপুর উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মিরাজুল মল্লিকের ছেলে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত সোমবার সকাল সাতটার দিকে সামিউল একটি সাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ রয়েছে। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, সে হয়তো আশপাশে কোথাও গেছে এবং শিগগিরই ফিরে আসবে। কিন্তু দিন গড়ালেও তার কোনো খোঁজ না মেলায় পরিবারের উদ্বেগ বাড়তে থাকে।
পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থানে খোঁজ শুরু করেন। গ্রাম ও আশপাশের এলাকায় মাইকিং করা হলেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের সহায়তায় নদীপাড়, বাজার এলাকা এবং স্কুলের আশপাশেও খোঁজ করা হয়, কিন্তু শিশুটির কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পরদিন আরও উদ্বেগজনক একটি তথ্য সামনে আসে। পরিবারের দাবি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল দশটার দিকে একটি মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে শিশুটির এক আত্মীয়ের মোবাইল নম্বরে বার্তা পাঠানো হয়। ওই বার্তায় সামিউলকে ফেরত দিতে তিন লাখ টাকা দাবি করা হয়। এ তথ্য প্রকাশের পর পরিবারের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, তারা কোনোভাবেই বুঝে উঠতে পারছেন না শিশুটি কোথায় থাকতে পারে এবং কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তারা দ্রুত শিশুটিকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় ফিরে পাওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এদিকে ঘটনার পর থেকেই স্থানীয় এলাকায় অতিরিক্ত নজরদারি শুরু করেছে পুলিশ। সাধারণ মানুষও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনুসন্ধানে অংশ নিচ্ছে।
নিচে ঘটনার একটি সংক্ষিপ্ত সময়রেখা তুলে ধরা হলো—
| সময় | ঘটনা |
|---|---|
| সোমবার সকাল ৭টা | সামিউল সাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় |
| সোমবার দিনব্যাপী | পরিবারের খোঁজাখুঁজি শুরু, কিন্তু সন্ধান মেলে না |
| মঙ্গলবার সকাল | আত্মীয়ের মোবাইলে মুক্তিপণ দাবির বার্তা আসে |
| পরবর্তী সময় | পুলিশ তদন্ত ও অনুসন্ধান জোরদার করে |
| তিন দিন পর | শিশুটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি |
সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। শিশুটিকে উদ্ধারে একাধিক দল কাজ করছে এবং সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা ব্যবহার করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, এমন ঘটনা এলাকায় বিরল হলেও এটি তাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। সবাই দ্রুত শিশুটির নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের প্রত্যাশা করছে। পরিবারের সদস্যরা এখন একমাত্র প্রার্থনা করছেন—সামিউল যেন দ্রুত ফিরে আসে এবং তাদের জীবন আবার স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।



