সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে চিংড়ির রেণু পোনা আহরণ করতে গিয়ে কুমিরের আক্রমণে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে গতকাল বুধবার বিকেলে বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার জয়মনি গ্রাম ও সুন্দরবনের মধ্যবর্তী শ্যালা নদীতে।
নিহত নারীর নাম সেলিনা বেগম (৫০)। তিনি মোংলার চিলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জয়মনি গ্রামের আবদুল শেখের স্ত্রী।
বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে সেলিনা বেগমসহ আরও দুই নারী জেলে শ্যালা নদীর লঞ্চঘাট এলাকায় জাল টেনে চিংড়ি মাছের রেণু পোনা আহরণ করছিলেন। বিকেল আনুমানিক ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে হঠাৎ নদীর পানি থেকে একটি কুমির উঠে এসে সেলিনা বেগমকে আক্রমণ করে। কুমিরটি তাঁকে পানির মধ্যে টেনে নিয়ে নদীর মাঝের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে।
এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা দুই নারী জেলে জাল টানার কাজে ব্যবহৃত কাঠের লাঠি দিয়ে কুমিরটিকে আঘাত করেন। তাদের প্রতিরোধের কারণে একপর্যায়ে কুমিরটি সেলিনা বেগমকে ছেড়ে দিয়ে পানির নিচে চলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থল থেকে সেলিনা বেগমকে উদ্ধার করেন। আনুমানিক সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাঁর মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার করা হয়।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের স্টেশন কর্মকর্তা মো. হামিদুর রহমান জানান, শ্যালা নদীতে জাল টেনে পোনা আহরণের সময় হঠাৎ কুমিরের আক্রমণে ওই নারী পানিতে টেনে নেওয়া হন। পরবর্তীতে সঙ্গে থাকা অন্য জেলেরা লাঠি দিয়ে কুমিরটিকে আঘাত করলে তাকে ছাড়িয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। তবে ততক্ষণে সেলিনা বেগমের মৃত্যু ঘটে।
বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সুন্দরবন সংলগ্ন নদ-নদীতে পোনা আহরণ কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও কিছু এলাকায় অবৈধভাবে এ ধরনের কাজ চলমান থাকে। ঘটনার সময় সেলিনা বেগম ও তাঁর সঙ্গে থাকা অন্যরা চিংড়ি রেণু পোনা আহরণে নিয়োজিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
নিচে ঘটনার প্রধান তথ্যসমূহ সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা হলো—
বিষয়
তথ্য
ঘটনা
কুমিরের আক্রমণে নারী মৃত্যু
স্থান
শ্যালা নদী, জয়মনি গ্রাম সংলগ্ন এলাকা
সময়
বুধবার বিকেল আনুমানিক ৫টা ৪০ মিনিট
নিহত
সেলিনা বেগম (৫০)
পেশা
চিংড়ি রেণু পোনা আহরণকারী
ঘটনার বিবরণ
জাল টানার সময় কুমিরের আক্রমণ ও পানিতে টেনে নেওয়া
উদ্ধার সময়
সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা
মন্তব্য
বন বিভাগ জানায়, নিষিদ্ধ এলাকায় পোনা আহরণ চলছিল
ঘটনাটি শ্যালা নদী এলাকায় চিংড়ি রেণু পোনা আহরণের সময় সংঘটিত হয় এবং স্থানীয় জেলেদের উপস্থিতিতে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত প্রাণহানি ঘটে।
মন্তব্য