খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬
ইউরোপের অন্যতম পরাশক্তি পর্তুগাল তাদের বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রথম ম্যাচটি কাঙ্ক্ষিত জয় দিয়ে শুরু করতে পারেনি। অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর অনন্য এক রেকর্ড গড়ার ম্যাচে আফ্রিকার শক্তিশালী প্রতিনিধি ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) মুখোমুখি হয়েছিল তারা। দুই দলের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয়েছে। ফলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে এই দুই দলকে।
পর্তুগালের অধিনায়ক এবং বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জন্য ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই ম্যাচে মাঠে নামার মধ্য দিয়ে তিনি বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে নতুন একটি মাইলফলক স্পর্শ করেন এবং রেকর্ড বইয়ে নিজের নাম পুনরায় লেখান। পর্তুগিজ ফুটবল ভক্তদের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে থাকা ফুটবলপ্রেমীদের দৃষ্টি ছিল এই পর্তুগিজ তারকার রেকর্ডের দিকে। ম্যাচজুড়ে কঙ্গোর রক্ষণভাগ রোনালদোকে কড়া নজরে রাখে, যার ফলে রেকর্ড গড়ার এই ঐতিহাসিক ম্যাচে তিনি বড় কোনো ব্যবধান গড়ে দিতে পারেননি।
ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলই আক্রমণ এবং পাল্টা আক্রমণের কৌশল অবলম্বন করে। পর্তুগাল তাদের প্রথাগত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার চেষ্টা করলেও আফ্রিকার শারীরিক ফুটবল ও রক্ষণাত্মক কৌশলের সামনে তাদের আক্রমণগুলো বারবার বাধাগ্রস্ত হয়। ডিআর কঙ্গোর ফুটবলাররা মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেন এবং পর্তুগালের ফরোয়ার্ড লাইনে বল সরবরাহের পথগুলো বন্ধ করে দেন। এর ফলে প্রথমার্ধের খেলায় কোনো দলই গোল করে ডেডলক ভাঙতে সমর্থ হয়নি।
দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হওয়ার পর দুই দলের কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। ইউরোপের পরাশক্তি পর্তুগাল গোলের জন্য মরিয়া হয়ে আক্রমণ বাড়াতে শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় ম্যাচের একটি আক্রমণ থেকে গোল করতে সক্ষম হয় ইউরোপের এই দলটি। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর আফ্রিকার প্রতিনিধি ডিআর কঙ্গো সমতায় ফেরার জন্য আক্রমণের গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ম্যাচের শেষ দিকে পর্তুগালের রক্ষণভাগের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে কঙ্গোর আক্রমণভাগের খেলোয়াড়েরা একটি দৃষ্টিনন্দন গোল করে ম্যাচটিকে ১-১ সমতায় ফিরিয়ে আনেন।
পর্তুগিজ ডিফেন্ডাররা গোলটি হজম করার পর ম্যাচে পুনরায় আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করলেও কঙ্গোর সুসংগঠিত ডিফেন্স লাইন আর কোনো সুযোগ দেয়নি। কঙ্গোর গোলরক্ষক এবং ডিফেন্ডাররা পর্তুগালের একাধিক জোরালো আক্রমণ দক্ষতার সাথে প্রতিহত করেন। অন্যদিকে, পর্তুগালের গোলরক্ষককেও বেশ কয়েকটি কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে, কারণ আফ্রিকার কাউন্টার অ্যাটাকগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক রূপ নিচ্ছিল। শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত কোনো দলই আর নতুন কোনো গোল করতে না পারায় ম্যাচটি ১-১ গোলের ড্রয়ে রূপ নেয়।
এই ড্রয়ের ফলে বিশ্বকাপ মিশন প্রত্যাশামতো জয় দিয়ে শুরু করার যে পরিকল্পনা পর্তুগাল ফুটবল দল সাজিয়েছিল, তাতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগল। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচেই গুরুত্বপূর্ণ ২ পয়েন্ট হারিয়ে পর্তুগাল এখন কিছুটা চাপের মুখে পড়েছে। তবে ডিআর কঙ্গোর জন্য ইউরোপের অন্যতম সেরা দলের বিরুদ্ধে ১ পয়েন্ট অর্জন করা একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই ১ পয়েন্ট গ্রুপ পর্বে কঙ্গোকে সামনের ম্যাচগুলোর জন্য মানসিকভাবে বেশ আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে পর্তুগালকে তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে অবশ্যই জয়ের ধারায় ফিরতে হবে। বিশেষ করে দলের আক্রমণভাগের কার্যকারিতা এবং রক্ষণভাগের শেষ মুহূর্তের অসতর্কতা দূর করার দিকে মনোযোগ দিতে হবে কোচকে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর রেকর্ড গড়ার এই ম্যাচটি পর্তুগিজ ফুটবল ইতিহাসের পাতায় যুক্ত হলেও, দলের কাঙ্ক্ষিত জয় না পাওয়ার আক্ষেপ রয়েই গেল ভক্তদের মাঝে। অন্যদিকে, কঙ্গো এই ম্যাচের আত্মবিশ্বাস কাজে লাগিয়ে গ্রুপ পর্বের পরবর্তী দলগুলোর বিরুদ্ধে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে।