খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
দেশে হামের প্রকোপ যেন কিছুতেই কমছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম আক্রান্ত সন্দেহে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে হাম এবং এই রোগের উপসর্গ নিয়ে শয্যাশায়ী হয়েছে আরও ৮৩৩ জন শিশু। ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে শতভাগ নিশ্চিত না হওয়া গেলেও চিকিৎসকেরা লক্ষণ দেখে এগুলোকে হামের উপসর্গ বলেই চিহ্নিত করছেন। দেশের সামগ্রিক শিশু স্বাস্থ্য পরিস্থিতির ওপর এই রোগটি যে বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে, তা স্পষ্ট।
আজ শনিবার (৪ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া বিজ্ঞপ্তির বিস্তারিত তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া দুই শিশুর শরীরে হামের স্পষ্ট উপসর্গ ছিল। তবে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হামের কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে কি না, তা এখনও চূড়ান্ত করা যায়নি।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামের সংক্রমণ হঠাৎ করেই বাড়তে শুরু করে। সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিতে এসে এ পর্যন্ত মোট ৬৩৮ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অন্যদিকে, ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া গেছে এমন হাম রোগীর মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৩ জনে। সব মিলিয়ে গত সাড়ে তিন মাসে হাম ও হামের সদৃশ উপসর্গ নিয়ে দেশে মোট ৭৩১ জন শিশুর অকালমৃত্যু ঘটল। সরকারি এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, মাঠপর্যায়ে রোগটির বিস্তার কতটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
রোগী শনাক্তের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দুই ধরনের হিসাব রাখছে। একটি হলো লক্ষণ দেখে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা রোগী, আর অন্যটি হলো পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া রোগী। ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত দেশজুড়ে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪ হাজার ৬৯৩ জনে। বিশাল এই সংখ্যার একটি বড় অংশই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশু।
প্রাথমিকভাবে সন্দেহভাজন এই বিপুল সংখ্যক রোগীর মধ্য থেকে যাদের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হয়েছিল, তাদের মধ্যে ১২ হাজার ৫২৬ জনের শরীরে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। আক্রান্ত এই শিশুদের একটি বড় অংশ দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত বাতাসে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়ায়। এই রোগ থেকে শিশুদের রক্ষা করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সময়মতো ইপিআই (EPI) কর্মসূচির অধীনে হামের টিকা বা এমআর (Measles-Rubella) ভ্যাকসিন দেওয়া। সাধারণত যেসব শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি থেকে বাদ পড়ে যায়, তারাই এই রোগের প্রধান শিকারে পরিণত হয়।
চিকিৎসকেরা পরামর্শ দিচ্ছেন, কোনো শিশুর শরীরে অতিরিক্ত জ্বর, চোখ লাল হওয়া, সর্দি-কাশি এবং সারা শরীরে লালচে দানা বা র্যাশ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। আক্রান্ত শিশুকে আইসোলেশনে বা আলাদা রাখা এবং পুষ্টিকর তরল খাবার নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে রোগটি পরিবারের বা আশেপাশের অন্য শিশুদের মধ্যে ছড়াতে না পারে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠপর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করার তাগিদ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।