খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপের টিকিটের দাম ও বিক্রয় প্রক্রিয়া নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের সমালোচনা যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ বা পরিস্থিতি অনুযায়ী টিকিটের দাম পরিবর্তনের পদ্ধতি নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই বিতর্কিত অধ্যায় কাটতে না কাটতেই এবার ফিফার নিজস্ব অফিশিয়াল রিসেল (পুনরায় বিক্রি) প্ল্যাটফর্মে একই ম্যাচের টিকিট কয়েক হাজার পাউন্ডে তালিকাভুক্ত হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থার এমন নীতিহীন পরোক্ষ বাণিজ্যের কারণে নতুন করে চরম ক্ষোভের মুখে পড়েছে সংস্থাটি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই টিকিট কেলেঙ্কারির খবরটি প্রকাশ করেছে।
আগামী সোমবার মেক্সিকোর বিপক্ষে হাইভোল্টেজ শেষ ষোলোর নকআউট ম্যাচে মাঠে নামবে ইংল্যান্ড। এই ম্যাচটিকে ঘিরেই মূলত টিকিট নিয়ে যত কাণ্ড। ইংল্যান্ডের সমর্থকদের কেনা কিছু টিকিট এখন ফিফার নিজস্ব রিসেল পোর্টালে আকাশছোঁয়া ও অস্বাভাবিক মূল্যে বিক্রির জন্য প্রদর্শিত হচ্ছে। বিষয়টি সাধারণ ফুটবলপ্রেমী ও সমর্থকদের নজরে আসতেই ফুটবল অঙ্গনে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) এই টিকিটের উৎস ব্যাখ্যা করে জানিয়েছে, আলোচিত টিকিটগুলো ইংল্যান্ড সাপোর্টার্স ট্রাভেল ক্লাবের সদস্যরা গত ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত একটি অফিশিয়াল ব্যালটের মাধ্যমে সংগ্রহ করেছিলেন। গ্রুপ পর্বে ডিআর কঙ্গোকে ২-১ গোলে হারিয়ে ইংল্যান্ড শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর থেকেই আগামী বুধবার আজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠেয় ম্যাচটির টিকিট পুনরায় বিক্রির এই অনাকাঙ্ক্ষিত সুযোগ তৈরি হয়।
এই টিকিট পুনরুৎপাদন ও চড়া মূল্যের তীব্র সমালোচনা করেছে ফুটবল সাপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (এফএসএ)। বিশ্বস্ত গণমাধ্যম বিবিসি-কে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় সংগঠনটি সরাসরি ফিফাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে। তারা বলেছে, ফিফা ইচ্ছাকৃতভাবে এমন একটি অনলাইন এক্সচেঞ্জ বা বিনিময় ব্যবস্থা তৈরি করে রেখেছে, যেখানে সাধারণ সমর্থকদের পকেট কেটে টিকিট অত্যন্ত চড়া দামে বিক্রির বৈধ সুযোগ তৈরি হয়। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই প্রক্রিয়ায় বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ক্রেতা এবং বিক্রেতা—উভয় পক্ষের কাছ থেকেই ১৫ শতাংশ করে লভ্যাংশ বা ফি কেটে নিচ্ছে।
সংগঠনটি আরও যোগ করেছে, এই বিশ্বকাপে বিভিন্ন উসিলায় সমর্থকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের জন্য তারা সবসময়ই ফিফার সমালোচনা করে এসেছে। তবে একই সঙ্গে যেসব সুযোগ সন্ধানী সমর্থক নিজেরাই অযৌক্তিক এবং অনৈতিক দামে অন্য সমর্থকদের কাছে টিকিট বিক্রির চেষ্টা করছেন, তাদের এই কর্মকাণ্ডকেও কোনোভাবে সমর্থন করা যায় না।
টিকিটের মূল্য নির্ধারণ ও এই বিতর্কিত ডায়নামিক প্রাইসিং নিয়ে এর আগেও নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে সাফাই গেয়েছিল ফিফা। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সংস্থাটি দাবি করেছে, ফিফার এই ভ্যারিয়েবল প্রাইসিং-ভিত্তিক টিকিট বিক্রয় ব্যবস্থাটি বর্তমান বৈশ্বিক খেলাধুলা ও বিনোদন খাতের আধুনিক শিল্পপ্রবণতার সঙ্গে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। স্টেডিয়ামে দর্শক উপস্থিতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে রাখতে, কালোবাজারি রোধ করতে এবং প্রতিটি ইভেন্টের প্রকৃত ও ন্যায্য বাজারমূল্য নিশ্চিত করতেই টিকিটের মূল্য পরিস্থিতি ও চাহিদা অনুযায়ী সমন্বয় করা হয়। তবে ফিফা বাজারমূল্যের দোহাই দিলেও সাধারণ ফুটবল অনুরাগীদের মতে, এটি আসলে সাধারণ দর্শকদের ওপর ফিফার এক ধরনের করপোরেট জুলুম।