খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
ফিলাডেলফিয়ার লিঙ্কন ফাইনান্সিয়াল ফিল্ডে তখন পারদ ছুঁয়েছে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মাথার ওপর তীব্র গরম আর যেকোনো মুহূর্তে বজ্রঝড়ের পূর্বাভাস—এমন এক চরম বৈরী আবহাওয়াতেই মাঠে নেমেছিল ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ে। কিন্তু মাঠের ভেতরের উত্তাপ যেন প্রকৃতির গরমকেও হার মানাল। লাতিন আমেরিকার দল প্যারাগুয়ের জমাট রক্ষণভাগ ও অতি-আগ্রাসী ফুটবল কৌশল প্রায় আটকে দিয়েছিল ২০১৮ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। তবে শেষ পর্যন্ত ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপের পেনাল্টি থেকে করা একমাত্র গোলটিই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটল দিদিয়ের দেশমের দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই প্যারাগুয়ের রণকৌশল ছিল পুরোপুরি ডিফেন্সিভ বা রক্ষণাত্মক। ফরাসিদের একের পর এক আক্রমণ রুখে দেওয়ার পাশাপাশি তারা ফ্রান্সের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাঘাত ঘটাতে বারবার কড়া ফাউলের আশ্রয় নেয়। প্রথমার্ধে এই কৌশলে তারা সফলও হয়, যার ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়। তবে ম্যাচজুড়ে প্যারাগুয়ের ফুটবলারদের এমন দৃষ্টিকটু ও আগ্রাসী আচরণের কারণে মাঠের পরিবেশ বেশ কয়েকবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রেফারি ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজানোর পরও দুই দলের খেলোয়াড়রা মাঠের মধ্যেই হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন, যা থামাতে স্বয়ং ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশমকে মধ্যস্থতা করতে হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে গোলের ডেডলক ভাঙতে ফ্রান্সের ডাগআউটে মাস্টারস্ট্রোক খেলেন কোচ দিদিয়ের দেশম। ম্যাচের ৬১ মিনিটে তিনি উইঙ্গার ব্র্যাডলি বারকোলাকে তুলে নিয়ে মাঠে নামান পিএসজির তরুণ ফরোয়ার্ড দেজিরে দুয়েকে। কোচের এই দূরদর্শী পরিবর্তনই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়।
ম্যাচের ৭০ মিনিটে দুয়ে নিজের দুর্দান্ত ড্রিবলিং দক্ষতায় প্যারাগুয়ের ডি-বক্সে ঢুকে পড়লে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডাররা তাকে অন্যায়ভাবে ট্যাকল করে মাটিতে ফেলে দেন। রেফারি প্রথমে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত না দিলেও, ফরাসিদের জোরালো দাবির মুখে ভিএআর (VAR) পরীক্ষা করেন এবং পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পট কিক থেকে অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায়, ধীরগতির রান-আপে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান কিলিয়ান এমবাপে।
এই গোলের মাধ্যমে চলমান বিশ্বকাপে নিজের সপ্তম গোলটি করলেন রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরাসি তারকা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ফুটবল বিশ্বকাপে এটি তার ১৯তম গোল। এর ফলে তিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় লিওনেল মেসির (২০ গোল) চেয়ে মাত্র ১ গোল পিছিয়ে রইলেন। উল্লেখ্য, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জিতলেও মেসির আর্জেন্টিনার কাছেই শিরোপা হারিয়েছিল এমবাপের ফ্রান্স।
প্যারাগুয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে গেলেও দলটির গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল পুরো ম্যাচে বীরত্বপূর্ণ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছেন। ফরাসি ফরোয়ার্ড উসমান দেম্বেলের সাথে এক সংঘর্ষে জালে পড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই মানু কোনের নেওয়া একটি জোরালো কর্নার শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় রুখে দেন গিল।
ম্যাচের শেষভাগে এমবাপে একক প্রচেষ্টায় গোল করার একটি সুযোগ হাতছাড়া করেন। এমনকি যোগ করা অতিরিক্ত সময়েও (ইঞ্জুরি টাইম) এমবাপের নেওয়া দুটি বুলেটগতির নিশ্চিত গোলের শট প্রতিহত করেন গিল। গিলের এই অতিমানবীয় দেয়াল প্যারাগুয়েকে বড় পরাজয়ের হাত থেকে রক্ষা করলেও টুর্নামেন্ট থেকে তাদের বিদায় আটকাতে পারেনি।
প্যারাগুয়ের বাধা টপকে ফ্রান্স এখন সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামবে। আগামী ১০ জুলাই টুর্নামেন্টের অন্যতম পরাশক্তি মরক্কোর মুখোমুখি হবে ফরাসিরা।