খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই জুলাই ২০২৬, ৯:১৬ এএম
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে টিকে থাকতে আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ। হারারেতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দ্বিতীয় ওয়ানডে শুধু একটি ম্যাচ নয়, সফরকারীদের জন্য এটি কার্যত ‘বাঁচা-মরার’ লড়াই। প্রথম ম্যাচে অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের পর সিরিজে সমতা ফেরাতে হলে এই ম্যাচে জয় ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই নাজমুল হোসেনের দলের সামনে।
এক সময় টানা চারটি ওয়ানডে সিরিজে হেরে কঠিন সময় পার করেছিল বাংলাদেশ। ২০২৫ সালের শুরুতে সেই হতাশাজনক ধারা দলটির আত্মবিশ্বাসেও বড় প্রভাব ফেলেছিল। তবে গত বছরের অক্টোবরে নিজেদের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজে পায় টাইগাররা। এরপর পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও ধারাবাহিকভাবে সিরিজ জিতে দলটি আবারও আত্মবিশ্বাস ফিরে পায়। একই সঙ্গে সরাসরি ওয়ানডে বিশ্বকাপে জায়গা পাওয়ার পথও অনেকটাই মসৃণ হয়ে ওঠে।
কিন্তু সেই জয়ের ধারাবাহিকতা এবার বড় পরীক্ষার মুখে। হারারের প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ শুরুতেই দারুণ অবস্থান তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং বিপর্যয়ে ম্যাচ হাতছাড়া করে। ফলে আজকের ম্যাচে পরাজয় মানেই সিরিজ হার। বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টায় শুরু হবে গুরুত্বপূর্ণ এই লড়াই।
প্রথম ওয়ানডের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক ছিল পেসার নাহিদ রানার অসাধারণ বোলিং। তিনি মাত্র ২১ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসে সেরা বোলিংয়ের নতুন রেকর্ড গড়েন। তাঁর বিধ্বংসী স্পেলে জিম্বাবুয়ে মাত্র ১৪১ রানে অলআউট হয়ে যায়। এত কম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের জয় সহজ হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।
১৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে একের পর এক উইকেট হারিয়ে মাত্র ১১৬ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বজ্ঞানহীন শট নির্বাচন, বড় জুটি গড়ে তুলতে না পারা এবং কন্ডিশনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে ব্যর্থ হওয়াই পরাজয়ের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। একই ধরনের ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণে সফরের একমাত্র টেস্টেও হারতে হয়েছিল বাংলাদেশকে।
তবে দলের ব্যাটিং নিয়ে এখনই হতাশ নন জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল। তাঁর বিশ্বাস, ব্যাটসম্যানরা খুব দ্রুতই নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারবেন।
আশরাফুল বলেন, দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স তাদের প্রত্যাশার সঙ্গে মিলছে না। তবে তিনি নিশ্চিত, বাকি দুই ওয়ানডে এবং পরবর্তী টি-টোয়েন্টি সিরিজে ব্যাটসম্যানরা গত কয়েক মাসের ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্সে ফিরবেন।
ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, অনেক ব্যাটসম্যান ভালো শট খেলেও বল সরাসরি ফিল্ডারের হাতে চলে গেছে। তাঁর মতে, জিম্বাবুয়ের মাঠের বড় বাউন্ডারি এবং অতিরিক্ত বাউন্সের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারেনি বাংলাদেশ। দেশের মাঠে সাধারণত ৬০ থেকে ৬৫ মিটার বাউন্ডারিতে খেলার অভ্যাস থাকলেও হারারেতে বাউন্ডারির দূরত্ব প্রায় ৭৩ থেকে ৭৫ মিটার। ফলে যেসব শট বাংলাদেশে সহজেই ছক্কা বা বাউন্ডারি হয়, সেগুলো এখানে ক্যাচে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশের অতীত রেকর্ডও খুব স্বস্তিদায়ক নয়। ২০২২ সালে দুই দল সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজে মুখোমুখি হলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল জিম্বাবুয়ে। এবারও প্রথম ম্যাচে হারের পর সেই স্মৃতি আবার সামনে চলে এসেছে। ফলে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে শুধু জয়ই নয়, ব্যাটিং ইউনিটের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়াও বাংলাদেশের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।
এর মধ্যেই দল আরেকটি ধাক্কা খেয়েছে। উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান লিটন দাস পুরোপুরি চোটমুক্ত হতে না পারায় এই ওয়ানডে সিরিজ থেকেও ছিটকে গেছেন। গত মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে চোট পাওয়ার পর তিনি টি-টোয়েন্টি সিরিজ এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট খেলতে পারেননি। ওয়ানডে সিরিজের জন্য সফরে গেলেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসক দলের পরামর্শে তাঁকে পুরো সিরিজ থেকেই বিশ্রামে রাখা হয়েছে।
সব মিলিয়ে আজকের ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে একাধিক চ্যালেঞ্জ। বোলিং বিভাগ প্রথম ম্যাচে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে। এখন প্রয়োজন ব্যাটসম্যানদের দায়িত্বশীল ও ধৈর্যশীল ইনিংস। সিরিজে টিকে থাকতে হলে শুরু থেকেই উইকেট ধরে রেখে পরিকল্পিত ব্যাটিং করতে হবে। অন্যদিকে জিম্বাবুয়ে প্রথম ম্যাচের আত্মবিশ্বাস ধরে রেখে সিরিজ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই মাঠে নামবে।
তাই হারারের দ্বিতীয় ওয়ানডে শুধু দুই দলের আরেকটি ম্যাচ নয়; এটি বাংলাদেশের জন্য আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার, ধারাবাহিকতা ধরে রাখা এবং সিরিজে প্রত্যাবর্তনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।
মন্তব্য