খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
টানা অতিবৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রামের পটিয়ায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা, নদীভাঙন ও পাহাড়ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি হিসেবে উপজেলার ৩৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র, মোবাইল হাসপাতাল ও ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। বুধবার রাতে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণে পটিয়ার বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়ে জলাবদ্ধতা আরও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। একই সঙ্গে নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন এবং পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের জন্য মাটিধসের চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে স্কুল-কলেজগুলোকে প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া দুর্গত মানুষের জন্য তাৎক্ষণিক জরুরি চিকিৎসাসেবা, শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের সব ধরনের প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে ঝুঁকিপূর্ণ ও নদীভাঙনপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের আগেভাগেই সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন থেকে স্থানীয় নাগরিকদের অনুরোধ করা হয়েছে, তারা যেন নিজেদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, জরুরি ওষুধ, শিশুখাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী গুছিয়ে রাখেন, যাতে পরিস্থিতি খারাপ হলে দ্রুত নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে পারেন। বিশেষ করে পাহাড়ঘেঁষা ও নদী তীরবর্তী কাঁচা ঘরবাড়িতে বসবাসকারীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান জানান, আবহাওয়াজনিত বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় উপজেলা প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগপ্রবণ এলাকার মানুষকে ঘরে ঝুঁকি নিয়ে না থেকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, যেকোনো দুর্যোগে শিশু, নারী, বয়স্ক এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের নিরাপত্তাকে সবার আগে অগ্রাধিকার দিতে হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, সেচ্ছাসেবক ও সরকারের সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বিতভাবে মাঠপর্যায়ে কাজ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোনো জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে পটিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জনজীবনে ভোগান্তি ও উদ্বেগ বাড়তে শুরু করেছে। বেশ কিছু নিম্নাঞ্চলে ইতিমধ্যে পানি জমতে শুরু করেছে, যার ফলে গ্রামীণ কাঁচা সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং কৃষিজমি তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। মাঠপর্যায়ের বাসিন্দারা প্রশাসনের এই আগাম আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটলে প্রয়োজনে আরও নতুন আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হবে এবং উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে এবং কোনো গুজবে কান না দিয়ে সরাসরি প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।