খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
গত কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রটি বন্যার পানিতে সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। এর ফলে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা বা বৈদ্যুতিক বিপর্যয় এড়াতে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের কারণে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির বিস্তীর্ণ এলাকা এখন পুরোপুরি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে, যার ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও পর্যটক।
স্থানীয় বিদ্যুৎ বিভাগ জানায়, বুধবার বিকেল ৩টা থেকে দীঘিনালার এই উপকেন্দ্রটির অপারেশন বন্ধ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করা হয়। এই একটি মাত্র উপকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে পুরো দীঘিনালা উপজেলা, পার্শ্ববর্তী রাঙামাটির লংগদু উপজেলা এবং দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র সাজেক ভ্যালি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। পাহাড়ি জনপদের এই বিশাল এলাকা হঠাৎ অন্ধকারে নিমজ্জিত হওয়ায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সাজেকে ঘুরতে আসা শত শত পর্যটক মোবাইল নেটওয়ার্ক ও চার্জিং সংকটের কারণে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। পাশাপাশি হাসপাতাল ও জরুরি সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোতেও স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা নিয়ে দীঘিনালা উপজেলা বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. এরশাদ আলী জানান, গত কয়েকদিনের রেকর্ড ভাঙা বৃষ্টিতে বন্যার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে উপকেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে পুরো উপকেন্দ্রটি পানির নিচে চলে যায়। এই অবস্থায় বিদ্যুৎ চালু রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। যেকোনো সময় ট্রান্সফরমার বা অন্য কোনো দামি যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। তাই নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কেন্দ্রটি সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পাহাড়ি ঢলের পানি পুরোপুরি নেমে না যাওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রটি পুনরায় চালু করা সম্ভব নয়। বন্যার পানি কমলে প্রথমে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়ন করা হবে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আবার বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হবে। তবে পানি নেমে যাওয়ার পর প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দিলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বর্ষার এই সময়ে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছেন।