খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধসে পড়েছে। এই ঘটনার পর থেকে দুই পার্বত্য জেলার মধ্যকার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
গত শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময়ে রাঙ্গুনিয়ার পদুয়া ইউনিয়নের দুধপুকুরিয়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। সেতুটি ভেঙে পড়ার পর থেকে ওই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর ফলে সড়কের দুই পাশে অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়েছে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় বাসিন্দা এবং সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ওই এলাকার পাহাড়ি ছড়া ও নদীগুলোতে পানির স্তরের পাশাপাশি স্রোতও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। শুক্রবার রাতে পানির বেগ এতটাই বেশি ছিল যে, সেখানকার একটি রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। বাঁধভাঙা পানির তীব্র তোড়ে একপর্যায়ে রাতের আঁধারে সেতুটির একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। সকাল থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা যাতায়াতের জন্য এসে সেতু ভাঙা দেখে থমকে যান। কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষগুলো এখন যাতায়াত করতে না পেরে চরম বিপাকে পড়েছেন।
ধসে পড়া এই সেতুটির ভৌগোলিক অবস্থান চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় হলেও এর রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বান্দরবান সড়ক বিভাগের আওতাধীন। সেতু ধসের খবর পেয়েই সওজ বিভাগের কর্মকর্তারা উদ্ধার ও সংস্কার কাজ শুরুর উদ্যোগ নেন। তবে বান্দরবান থেকে রাঙ্গুনিয়া যাওয়ার মূল সড়কটির বেশ কয়েকটি জায়গা ইতিমধ্যে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।
বান্দরবান সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন আজ বেলা পৌনে একটার দিকে আমাদের প্রতিনিধিকে পরিস্থিতির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বান্দরবান থেকে দুর্ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে বালাঘাটা ও স্বর্ণমন্দির এলাকায় সড়ক ও একাধিক সেতু বন্যার পানিতে ডুবে রয়েছে। এই কারণে সওজ-এর বিশেষ প্রকৌশলী দল এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এখনো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারছে না। তিনি আরও আশ্বাস দেন, সড়কের ওপর থেকে বন্যার পানি নেমে গেলেই দ্রুততার সাথে সেখানে একটি বেইলি সেতু (জরুরি লোহার সেতু) বসিয়ে সাময়িকভাবে যান চলাচল স্বাভাবিক করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও চারপাশের বন্যা পরিস্থিতির কারণে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে ঠিক কত সময় লাগতে পারে, তা নির্দিষ্ট করে জানাতে পারেননি তিনি। স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।