খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ই জুলাই ২০২৬, ১০:৪৯ এএম
মাদারীপুর সদর মডেল থানার অস্থায়ী কার্যালয়ের বারান্দার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যাওয়া সেই নারী আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার জিয়ানগর এলাকার একটি বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ তাঁর অবস্থান নিশ্চিত করে এই অভিযান চালায়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে সদর মডেল থানার বারান্দার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান হাসিনা বেগম (৩৫)। তিনি মাদারীপুর পৌরসভার থানতলী এলাকার হবি হাওলাদারের মেয়ে এবং সদর উপজেলার কালাইমারা এলাকার আল-আমিনের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইটেরপুল পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা হাসিনা বেগমকে আটক করেন। রাতেই তাঁকে মাদারীপুর সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে মাদারীপুর সদর মডেল থানার মূল ভবনের নির্মাণকাজ চলায় ওসির সরকারি বাসভবনের নিচতলায় অস্থায়ীভাবে থানার দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে আসামিদের রাখার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো হাজতখানা না থাকায় হাসিনাকে বারান্দার একটি কক্ষে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছিল। মাঝরাতে নিরাপত্তারক্ষীদের নজর এড়িয়ে তিনি ওই কক্ষের জানালার গ্রিল ভেঙে কৌশলে পালিয়ে যান।
থানা থেকে আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়। শুক্রবার রাতে মাদারীপুর জেলা পুলিশ জানতে পারে যে, হাসিনা পালিয়ে গিয়ে ঢাকায় আত্মগোপন করেছেন। এরপরই পুলিশের একটি বিশেষ দল তাঁর অবস্থান শনাক্তে কাজ শুরু করে। কেরানীগঞ্জের জিয়ানগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আজ ভোরে তাঁকে আটক করা হয়। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁকে মাদারীপুর সদর মডেল থানায় ফিরিয়ে আনা হয় এবং বেলা দেড়টার দিকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে হাজির করা হয়। বিজ্ঞ আদালত শুনানি শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মাদারীপুর সদর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম শাহারিয়ার আমাদের প্রতিনিধিকে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পুলিশি হেফাজত থেকে পালানোর অপরাধে হাসিনা বেগমের বিরুদ্ধে থানায় নতুন করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে থানা থেকে আসামি পালিয়ে যাওয়ার এই গুরুতর ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও সদর সার্কেল) ফারিহা রফিকনাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে ঘটনার বিস্তারিত উল্লেখ করে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে দায়িত্ব অবহেলার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ায় থানার এসআই রমজান আলীসহ দুই পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করেছেন পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান। তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
মন্তব্য