খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
রাজধানীর মগবাজার, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার ও হাতিরপুলসহ আশপাশের বিশাল একটি এলাকায় শনিবার এক ভয়াবহ বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছে। প্রায় পাঁচ ঘণ্টার এই আকস্মিক বিদ্যুৎ বিভ্রাটে থমকে যায় এসব এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। তীব্র গরমে একদিকে যেমন বাসা-বাড়িতে ত্রাহি অবস্থার সৃষ্টি হয়, অন্যদিকে বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে স্থবির হয়ে পড়ে স্বাভাবিক কাজকর্ম। প্রাথমিক সূত্র থেকে জানা গেছে, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার একটি অভ্যন্তরীণ কারিগরি ত্রুটির কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।
শনিবার দুপুরের দিকে হঠাৎ করেই পুরো এলাকা অন্ধকার হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন বহুতল ভবনের বাসিন্দারা। অনেক ভবনে পানির পাম্প চালানো সম্ভব হয়নি, যার ফলে বিকালের দিকে বাসা-বাড়িতে তীব্র পানির সংকট দেখা দেয়। গ্রীষ্মের এই প্রচণ্ড গরমে ফ্যান ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বন্ধ থাকায় ঘরের ভেতর টেকা দায় হয়ে পড়ে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা গরমে চরম হাঁসফাঁস করতে থাকেন। অনেক বাসিন্দা গরমে টিকতে না পেরে বাসার নিচে রাস্তায় বা খোলা জায়গায় এসে ভিড় করেন।
এই বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ধাক্কা লেগেছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যেও। কারওয়ান বাজার ও বাংলামোটরের মতো ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকার শত শত অফিস, দোকানপাট, শপিং মল ও রেস্টুরেন্টে কাজকর্ম ব্যাহত হয়। ছোট ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো জেনারেটর চালিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও দীর্ঘ সময়ের জ্বালানি খরচে তাদের লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে। জেনারেটর সুবিধা না থাকা ছোট দোকানগুলোতে কেনাবেচা এক প্রকার বন্ধই ছিল। অন্ধকার ও ভ্যাপসা গরমের কারণে রেস্টুরেন্টগুলোতে গ্রাহকদের উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম।
বিদ্যুৎ না থাকার প্রভাব পড়ে আধুনিক যোগাযোগ ও নাগরিক সেবার ওপরেও। দীর্ঘ সময় ব্যাকআপ না থাকায় মগবাজার ও হাতিরপুল এলাকার বেশ কয়েকটি মোবাইল টাওয়ার সাময়িকভাবে অকার্যকর হয়ে পড়ে। এর ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট সেবা ব্যবহারে তীব্র বিভ্রাটের সম্মুখীন হন। জরুরি প্রয়োজনেও অনেকে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। শুধু তা-ই নয়, সড়কের স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলামোটর ও কারওয়ান বাজার মোড়ে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। যানজট নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে কাজ করতে গিয়ে বেশ হিমশিম খেতে হয়।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সঞ্চালন লাইনের ত্রুটি ধরা পড়ার পরপরই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে জরুরি ভিত্তিতে প্রকৌশলীদের কয়েকটি দল কাজে নামে। বিকালের পর থেকে ধাপে ধাপে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।
ভবিষ্যতে এমন দীর্ঘস্থায়ী বিপর্যয় এড়াতে ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা বিদ্যুৎ অবকাঠামোর আধুনিকায়নের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় জরুরি বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বা ব্যাকআপ লাইন নিশ্চিত করার জন্য তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান।