খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ই জুলাই ২০২৬, ১০:১ এএম
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ম্যাচেও পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেল ভারত। সাউদাম্পটনে অনুষ্ঠিত পঞ্চম ও শেষ ম্যাচে ৫৬ রানের জয় তুলে নিয়ে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিকরা। বৃষ্টির কারণে প্রথম ম্যাচ পরিত্যক্ত না হলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত। টানা দুইবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারতের জন্য এই সিরিজ তাই হতাশারই প্রতিচ্ছবি হয়ে থাকল।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোর
ইংল্যান্ড: ২৫৭/৩ (২০ ওভার)
জস বাটলার ১৩১, হ্যারি ব্রুক অপরাজিত ৯৫; শিবম দুবে ২/২২।
ভারত: ২০১/৮ (২০ ওভার)
ঈশান কিষান ৫৬, তিলক ভার্মা ৫৩; স্যাম কারান ৩/৩৬।
ফল: ইংল্যান্ড ৫৬ রানে জয়ী এবং ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়।
ফিফা বিশ্বকাপের আবহে “ইংল্যান্ড ৪-০ ভারত” শিরোনাম দেখে অনেকেই প্রথমে ফুটবলের স্কোরলাইন ভেবে বিভ্রান্ত হতে পারেন। তবে এটি ক্রিকেটের ফলাফল, আর মাঠে ইংলিশ ক্রিকেটারদের উচ্ছ্বাসই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
সিরিজের শুরু থেকেই ইংল্যান্ড ছিল ছন্দে। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ টি-টোয়েন্টি জিতে তারা আগেই ট্রফি নিশ্চিত করেছিল। ফলে শেষ ম্যাচটি ছিল আনুষ্ঠানিকতার। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে সেটির কোনো ছাপ দেখা যায়নি। বরং ইংল্যান্ড শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলে ভারতের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
টস-পরবর্তী ব্যাটিংয়ে ইংল্যান্ডের ইনিংসের ভিত্তি গড়ে দেন জস বাটলার ও অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। শুরুর কয়েকটি উইকেট দ্রুত হারানোর পর এই দুই ব্যাটার ভারতের বোলিং আক্রমণকে কার্যত নিষ্প্রভ করে দেন। বাটলার মাত্রাতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী ও নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ে ১৩১ রান করেন, অন্য প্রান্তে ব্রুক অপরাজিত থাকেন ৯৫ রানে। তাদের অবিচ্ছিন্ন ২৩৩ রানের জুটি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যেকোনো উইকেটে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড হিসেবে জায়গা করে নেয়।
এই জুটির ওপর ভর করেই নির্ধারিত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২৫৭ রান তোলে ইংল্যান্ড, যা ভারতের সামনে পাহাড়সম লক্ষ্য দাঁড় করিয়ে দেয়। ভারতের হয়ে শিবম দুবে দুটি উইকেট নিলেও ইংলিশ ব্যাটারদের রান তোলার গতি থামাতে পারেননি অন্য বোলাররা।
২৫৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে ভারত। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় প্রয়োজনীয় রানরেটের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোনো সম্ভব হয়নি। ঈশান কিষান ৫৬ এবং তিলক ভার্মা ৫৩ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে তাদের ইনিংস জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করার জন্য যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ২০১ রানেই থেমে যায় ভারতের ইনিংস।
ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণে সবচেয়ে সফল ছিলেন স্যাম কারান। তিনি ৩ উইকেট নিয়ে ভারতের রান তাড়ার প্রচেষ্টায় বড় ধাক্কা দেন। অন্য বোলাররাও নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে ভারতের ব্যাটারদের বড় জুটি গড়ার সুযোগ দেননি।
এই জয়কে অনেকেই প্রতিশোধের উপলক্ষ হিসেবেও দেখছেন। চলতি বছরের মার্চে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ভারতের দেওয়া ২৫৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ড ২৪৬ রানে থেমে গিয়েছিল। মাত্র ৭ রানের সেই হারেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল ইংলিশদের। কয়েক মাসের ব্যবধানে এবার একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সিরিজে একচ্ছত্র আধিপত্য দেখিয়ে নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিল তারা।
অন্যদিকে ভারতের জন্য এটি টানা হতাশাজনক সময়। অল্প কিছুদিন আগে আয়ারল্যান্ডের কাছেও তারা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ হেরেছিল। এরপর ইংল্যান্ডের কাছে ৪-০ ব্যবধানে পরাজয় দলটির ব্যাটিং, বোলিং এবং সামগ্রিক পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। সামনে আন্তর্জাতিক সূচিতে গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ ও বড় টুর্নামেন্ট থাকায় এই দুর্বলতাগুলো দ্রুত কাটিয়ে ওঠাই এখন ভারতের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
মন্তব্য