খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান বন্যা পরিস্থিতির কারণে পিছিয়ে গেছে প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লাকে দেওয়া রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও তাঁর একক সংগীতের বিশেষ অনুষ্ঠান। আগামী ১৮ জুলাই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার মূল মিলনায়তনে জাঁকজমকপূর্ণ এই আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে দেশের বানভাসি মানুষের দুঃখ-কষ্টের কথা বিবেচনা করে আপাতত এই আয়োজনটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ ও শিল্পী নিজে।
এ বিষয়ে কিংবদন্তি শিল্পী রুনা লায়লা বলেন, “১৮ জুলাই শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে অনুষ্ঠানটির তারিখ নির্ধারণ করা হলেও বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা তা পিছিয়ে দিয়েছি। দেশের একটি বড় অঞ্চলের মানুষ বন্যায় পানিবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। এমন মানবিক সংকটের সময়ে এ ধরনের আনন্দঘন অনুষ্ঠান আয়োজন করা সমীচীন নয়। সবকিছু বিবেচনা করে শিল্পকলা একাডেমি দ্রুতই নতুন তারিখ নির্ধারণ করবে।”
শিল্পকলা একাডেমির জনসংযোগ কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে চলতি জুলাই মাসের শেষভাগেই এই সম্মাননা অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হতে পারে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ২৫ জুলাই অনুষ্ঠানটি আয়োজনের একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেশের বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক গতিপ্রকৃতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।
এই অনুষ্ঠানটি চলতি মাসেই আয়োজন করার পেছনে একটি বড় তাগিদ রয়েছে। আগামী ১ ও ৮ আগস্ট যথাক্রমে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি ও মেলবোর্নে দুটি বড় কনসার্টে গান শোনানোর কথা রয়েছে রুনা লায়লার। দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর অস্ট্রেলিয়ার মঞ্চে সুরের জাদু ছড়াতে যাচ্ছেন এই কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী। সেই সফরের অংশ হিসেবে আগামী ২৯ জুলাই তাঁর নিজস্ব একঝাঁক যন্ত্রশিল্পীদের দল নিয়ে সিডনির উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে। তাই দেশ ছাড়ার আগেই সম্মাননা অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে শিল্পকলা একাডেমি।
ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলা গানের জগতে রাজত্ব করছেন রুনা লায়লা। দীর্ঘ এই গৌরবময় ক্যারিয়ারে এবারই প্রথম তিনি শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চে একক সংগীতানুষ্ঠানে অংশ নিতে যাচ্ছেন। জমকালো এই আয়োজনে রুনা লায়লা কেবল সম্মাননা গ্রহণই করবেন না, বরং তাঁর কণ্ঠে শ্রোতাপ্রিয় বেশ কিছু কালজয়ী গান গেয়ে শোনাবেন।
অনুষ্ঠানে দেশের সংগীতাঙ্গনের বহু গুণী ব্যক্তিত্ব উপস্থিত থাকবেন, যাঁরা প্রিয় শিল্পীকে নিয়ে নিজেদের স্মৃতিচারণ ও মূল্যায়ন তুলে ধরবেন। পুরো আয়োজনটি মূলত গান আর আড্ডার মধ্য দিয়ে একটি স্মর্তব্য সন্ধ্যায় রূপ নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রুনা লায়লা এই আয়োজন নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের দীর্ঘ সংগীত জীবনের পথচলা, গানের পেছনের নানা গল্প এবং স্মৃতিগুলো নতুন প্রজন্মের শ্রোতা ও শিল্পীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আর এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে এমন উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিল্পকলায় এবারই আমার প্রথম একক সংগীত পরিবেশনা হতে যাচ্ছে। আশা করি, সবার সাথে দারুণ একটি স্মৃতিময় সময় কাটবে।”
উল্লেখ্য, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় গত বছর থেকে দেশের বরেণ্য প্রবীণ শিল্পীদের সম্মাননা জানানোর এই বিশেষ উদ্যোগ শুরু হয়। গত বছরের সেপ্টেম্বরে কিংবদন্তি শিল্পী সাবিনা ইয়াসমীনকে দিয়ে এই উৎসবের সূচনা হয়েছিল। এরপর গত জুন মাসে সম্মাননা দেওয়া হয় দেশের আরেক গুণী কণ্ঠশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদীকে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার রুনা লায়লার গলায় সম্মানের মালা পরাতে যাচ্ছে দেশের সংস্কৃতির সর্বোচ্চ এই বিদ্যাপীঠ।