চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় একটি লবণ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে কারখানায় কর্মরত অন্তত ১০ জন শ্রমিক মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৬ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে তারা হাসপাতালের বার্ন ইউনিট ও বিভিন্ন বিশেষায়িত ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বোয়ালখালী পৌরসভার পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকার বানু মেম্বার টেক নামক স্থানে অবস্থিত কনফিডেন্স লবণ কারখানায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। হঠাৎ ঘটে যাওয়া এই অগ্নিকাণ্ডে কারখানা প্রাঙ্গণে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কারখানা কর্তৃপক্ষ, পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় কারখানার ভেতরে রক্ষণাবেক্ষণ ও ঝালাইয়ের (ওয়েল্ডিং) কাজ চলছিল। অসাবধানতাবশত সেখানে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। দুর্ভাগ্যবশত, ঝালাই করার জায়গার ঠিক পাশেই কারখানার প্যাকেজিংয়ের জন্য প্রচুর পরিমাণ কাগজের স্তূপ রাখা ছিল। শর্টসার্কিটের আগুন মুহূর্তের মধ্যে সেই শুকনো কাগজের স্তূপে ছড়িয়ে পড়ে এবং দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে। সে সময় সেখানে দায়িত্বরত শ্রমিকরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুনের শিখা ও উত্তাপে দগ্ধ হন। কারখানার অন্য শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এগিয়ে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং ভেতরে আটকে পড়া দগ্ধ শ্রমিকদের উদ্ধার করেন।
অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ শ্রমিকদের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন—বোয়ালখালীর রুহুল আমিনের ছেলে দিদারুল আলম (৩২), রাঙ্গুনিয়ার বিরাজ মোহন দাশের ছেলে উজ্জ্বল দাশ (৫৩), সদরঘাটের আবুল কালামের ছেলে মোহাম্মদ লিটন (২৮), লোহাগাড়ার ছালে আহমদের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৩৪), রাউজানের মৃত আমিনুল হকের ছেলে জাহিদুল আলম (৪২), বোয়ালখালীর মোহাম্মদ ইব্রাহিমের ছেলে মোহাম্মদ জাহিদ হোসেন (৩৮), একই এলাকার নূর চ্চাপার ছেলে নূর নবী (২৫), পটিয়ার মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ আলম (৪৫), পটিয়ার খায়ের আহমদের ছেলে মাহামুদুল হক (৪৫) এবং চন্দনাইশের আলতাজ মিয়ার ছেলে সেলিম উদ্দিন (৩০)। দগ্ধ এই শ্রমিকরা চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার বাসিন্দা।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল আলম আশেক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বোয়ালখালীর লবণ কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের পর পরই দগ্ধ ১০ জনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। জরুরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাদের সবাইকে ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে। দগ্ধদের মধ্যে ৬ জনের শরীরের সিংহভাগ পুড়ে যাওয়ায় তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকেরা তাদের ২৪ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন।
এদিকে বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোজাফফর হোসেন জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে ঝালাইয়ের কাজের সময় শর্টসার্কিট থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। কারখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অগ্নিনির্বাপণ প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



