খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
দেশের অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তির বাতাস বইতে শুরু করেছে। প্রবাসী আয়ের টানা ইতিবাচক প্রবাহের ওপর ভর করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বা গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ আরও বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ ইব্রাহিম মুনসি রিজার্ভ বৃদ্ধির এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৬ জুলাই পর্যন্ত দেশের বৈদেশিক মুদ্রার মোট বা গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ৬৬৪ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে, যা সাধারণ হিসাবে ৩৬ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) স্বীকৃত হিসাব পদ্ধতি ‘বিপিএম-৬’ (BPM6) অনুযায়ী হিসাব করলে এই রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩১ হাজার ৯৬৬ দশমিক ২১ মিলিয়ন বা ৩১ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন ডলার। সাধারণত নিট ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের প্রকৃত চিত্র বুঝতে আইএমএফ-এর এই হিসাব পদ্ধতি আন্তর্জাতিকভাবে বেশ গ্রহণযোগ্য।
রিজার্ভের এই উল্লম্ফনের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়। সদ্য শুরু হওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ের শুরু থেকেই বৈধ পথে রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স আসতে শুরু করেছে। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি জুলাই মাসের প্রথম ১৪ দিনেই দেশে প্রবাসী আয় এসেছে ১৫৪ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বিলিয়ন ডলারের হিসাবে ১ দশমিক ৫৪২ বিলিয়ন ডলার।
গত বছরের অর্থাৎ ২০২৫-২৬ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংগ্রহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত বছরের জুলাইয়ের প্রথম ১৪ দিনের তুলনায় এবারের প্রবাসী আয় ২১ দশমিক ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে শুধু ১৪ জুলাই একদিনেই প্রবাসীরা বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে পাঠিয়েছেন ১১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার বা ১১৫ মিলিয়ন ডলার।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্সের এই চাঙ্গা ভাব বজায় থাকলে আগামী দিনগুলোতে রিজার্ভের ওপর চাপ আরও কমে আসবে। একই সঙ্গে এটি ডলারের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা বাড়াতে দেশের অর্থনীতিকে বড় ধরনের শক্তি জোগাবে। এখন দেখার বিষয়, অর্থবছরের বাকি দিনগুলোতে প্রবাসী আয়ের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা কতটা ধরে রাখা সম্ভব হয়।