খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
চব্বিশের জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে দায়ের হওয়া মামলায় সাধারণ মানুষকে মিথ্যাভাবে জড়ানো ও হয়রানি করার বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মহানগর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। কেউ যদি ব্যক্তিগত আক্রোশ বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করে থাকে, তবে তাদের চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে সাফ জানিয়েছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান মহানগর গোয়েন্দা প্রধান শফিকুল ইসলাম। মূলত অনলাইন জুয়াবিরোধী বিশেষ অভিযানের বড় ধরনের সাফল্য তুলে ধরতেই এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে সমসাময়িক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপরও আলোকপাত করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান জানান, জুলাই আন্দোলন সংক্রান্ত মোট ৫৯টি স্পর্শকাতর মামলা বর্তমানে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ খতিয়ে দেখছে। পর্যায়ক্রমে প্রতিটি মামলার তদন্তের কাজই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের মনে যেন কোনো প্রকার সংশয় না থাকে, সেজন্য তদন্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতি ১৫ দিন পরপর এই মামলাগুলো নিয়ে বিশেষ পর্যালোচনা সভা করা হচ্ছে। এছাড়া পুলিশ সদরদপ্তরেও এই মামলাগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে তদারকির জন্য একটি আলাদা মনিটরিং সেল দিনরাত কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গোয়েন্দা প্রধান শফিকুল ইসলাম সুনির্দিষ্টভাবে আশ্বস্ত করে বলেন, প্রতিটি মামলার ডিজিটাল ও বাস্তব তথ্য-উপাত্ত অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বিশ্লেষণ করেই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। তদন্ত প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রভাব খাটানোর কোনো সুযোগ থাকবে না। কোনো অবস্থাতেই কোনো নিরাপরাধ মানুষকে হয়রানি কিংবা হেনস্তা করা হবে না বলে তিনি দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
এদিকে অনলাইন জুয়াবিরোধী অভিযানের বিবরণ দিয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সম্প্রতি ডিবি পুলিশ একটি বড় অপরাধী চক্রকে আইনের আওতায় এনেছে। ব্যাপক অভিযানের মাধ্যমে সাড়ে ছয় হাজার মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট সংবলিত সচল সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে। এই অবৈধ চক্রের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
ডিবি জানায়, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অনলাইন জুয়ার লেনদেনে এসব বেনামি বা ভুয়া সিম কার্ড ব্যবহার করে আসছিল। এতে দেশের কোটি কোটি টাকা অবৈধ উপায়ে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছিল। এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো প্রভাবশালী মহলের হাত রয়েছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। অপরাধের ধরণ এবং আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই চক্রের বাকি সদস্যদেরও দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।