জুলাই আন্দোলনের মিথ্যা মামলায় হয়রানি করলে আইনি ব্যবস্থা: ডিবি প্রধান

চব্বিশের জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দায়েরকৃত মামলায় কোনো নিরপরাধ সাধারণ মানুষকে হয়রানি বা মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মহানগর গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এ বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে অবস্থিত ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান গোয়েন্দা প্রধান শফিকুল ইসলাম। মূলত অনলাইন জুয়াবিরোধী একটি বিশেষ অভিযানের সাফল্য তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের ডাক দেওয়া হলেও সমসাময়িক প্রেক্ষাপটে জুলাই আন্দোলনের মামলার প্রসঙ্গটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আলোচনায় আসে।

প্রতিটি মামলার কঠোর তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতের উদ্যোগ

সংবাদ সম্মেলনে ডিবি প্রধান জানান, জুলাই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রুজু হওয়া মামলাগুলোর মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর ৫৯টি মামলার তদন্তভার বর্তমানে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ওপর ন্যস্ত রয়েছে। প্রতিটি মামলার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং বস্তুনিষ্ঠ তদন্ত সম্পন্ন করতে ডিবি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

তদন্তে শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে প্রতি ১৫ দিন পরপর একটি বিশেষ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই সভায় প্রতিটি মামলার প্রোগ্রেস রিপোর্ট বা অগ্রগতির চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়। এছাড়া, মাঠপর্যায়ের তদন্ত কার্যক্রমের সার্বিক তদারকি নিশ্চিত করতে পুলিশ সদরদপ্তরে একটি পৃথক ও বিশেষায়িত ‘মনিটরিং সেল’ গঠন করা হয়েছে, যা কেন্দ্রীয়ভাবে মামলাগুলোর ওপর কড়া নজরদারি রাখছে।

ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম দৃঢ়তার সাথে বলেন, কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রভাবে কাউকে এই মামলাগুলোতে জড়ানো হবে না। প্রতিটি মামলার নথিপত্র, ঘটনাস্থলের ডিজিটাল এভিডেন্স এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অত্যন্ত নিখুঁত ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে বিশ্লেষণ করে তবেই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন বা চার্জশিট দাখিল করা হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা সুনির্দিষ্ট অপরাধের তদন্ত করছি, কোনো সাধারণ বা নিরপরাধ নাগরিক যেন কোনো অবস্থাতেই বিন্দুমাত্র হয়রানির শিকার না হন, তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে।”

সাড়ে ৬ হাজার সিমসহ অনলাইন জুয়া চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

জুলাই আন্দোলনের মামলার পাশাপাশি সংবাদ সম্মেলনে ডিবি পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগের একটি বিশাল সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরা হয়। দেশে দ্রুত বিস্তার লাভ করা অবৈধ অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে ডিবি সম্প্রতি একটি সুসংগঠিত চক্রের আস্তানায় অভিযান পরিচালনা করে।

এই বিশেষ অভিযানে চক্রটির কাছ থেকে সাড়ে ছয় হাজার (৬,৫০০) মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট সংবলিত সক্রিয় সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ সিম ব্যবহার করে চক্রটি দেশের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল এবং অবৈধ লেনদেন সচল রেখেছিল। অপরাধে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে এই চক্রের মূল হোতাসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।

ডিবি জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা অত্যন্ত চতুরতার সাথে ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে এবং সাধারণ মানুষের অজান্তে এই বিপুল পরিমাণ এমএফএস অ্যাকাউন্ট তৈরি করেছিল। এই চক্রের পেছনে অন্য কোনো প্রভাবশালী বা আন্তর্জাতিক মহলের হাত রয়েছে কি না এবং এই বিপুল অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে ডিবির একাধিক টিম কাজ করছে। অপরাধীদের সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কটি উপড়ে ফেলতে ডিবি এই অভিযান অব্যাহত রাখবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।