খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের চালানো আকস্মিক ব্যালিস্টিক মিসাইল ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় অন্তত দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও এক সেনাসদস্য নিখোঁজ রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর চলমান চরম উত্তেজনা ও সংঘাতের মধ্যে শুক্রবার এই রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনাটি ঘটে।
শনিবার সেন্টকমের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, হামলার সময় জর্ডানের ওই ঘাঁটিতে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কার্যকর করতে গিয়ে মার্কিন সেনারা হতাহত হন। ঘটনার পরপরই আহত চার মার্কিন সেনাকে উদ্ধার করে দ্রুত জর্ডানের একটি স্থানীয় সামরিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। চিকিৎসা শেষে ইতিমধ্যে তারা হাসপাতাল ছেড়েছেন। এছাড়া সামান্য আহত হওয়া অন্যান্য সেনাসদস্যদের প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আবারও তাদের নিজ নিজ ডিউটিতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। নিখোঁজ সেনাসদস্যকে উদ্ধারে বিমানঘাঁটি ও এর আশপাশের এলাকায় জোরদার অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে।
নিহতদের পরিচয় প্রসঙ্গে সেন্টকম জানিয়েছে, তাদের পরিবারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এখনই সেনাসদস্যদের নাম কিংবা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। সামরিক প্রোটোকল অনুযায়ী, নিহতদের নিকটাত্মীয়দের আনুষ্ঠানিকভাবে খবর দেওয়ার ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের কাছে তাদের পরিচয় ও পদবি প্রকাশ করা হবে।
সংবাদ সংস্থা ও সামরিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে পালটা হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এর আগে ইরাকের আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) দুটি সামরিক বিমানের মুখোমুখি সংঘর্ষে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে, যাতে প্রাণ হারান ছয়জন মার্কিন সেনাসদস্য। এরপর কুয়েতের একটি অগ্রবর্তী কমান্ড পোস্টে ইরানের ড্রোন হামলায় আরও ছয় মার্কিন সেনা নিহত হন। এছাড়া চলতি মাসের শুরুর দিকে আরব সাগরে নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় এক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মার্কিন নৌবাহিনীর একজন দক্ষ পাইলট মারা যান।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটির নিরাপত্তা এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ইরানে এই সামরিক আগ্রাসন চালাতে গিয়ে এ পর্যন্ত ৪০০-র বেশি মার্কিন সেনা বিভিন্ন হামলায় আহত হয়েছেন, যাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক। জর্ডানের এই সাম্প্রতিক হামলা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সংঘাতকে আরও উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।