খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্ব ফুটবলে নতুন এক ইতিহাস রচনা করলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এই ম্যাচটিতে ফরাসিদের জয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত অর্জনে নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন ফরাসি অধিনায়ক। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে এই ফরোয়ার্ডের সামনে সুযোগ ছিল বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় নিজের অবস্থান আরও মজবুত করার। সেই সুযোগটি হেলায় হারাননি রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা ফুটবলার।
সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে শিরোপার দৌড় থেকে ছিটকে যাওয়ার পর ফরাসিদের জন্য এই ম্যাচটি সান্ত্বনার হলেও এমবাপ্পের জন্য ছিল নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের মোক্ষম মঞ্চ। ম্যাচের শুরু থেকেই ফরাসি শিবিরের দলগত কৌশলের চেয়ে এমবাপ্পের ব্যক্তিগত গোলক্ষুধা ছিল চোখে পড়ার মতো। পেনাল্টি বক্সের আশপাশে বল পেলেই তিনি একক প্রচেষ্টায় প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন। যদিও প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডের জমাট রক্ষণের কারণে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পাননি তিনি। উল্টো ইংল্যান্ড যখন গোল করে ম্যাচে লিড নেয়, তখন ক্যামেরায় ফরাসি অধিনায়কের মুখে এক চিলতে হাসি দেখা যায়, যা অনেকের মনেই কৌতূহল জাগিয়েছে।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে ফিরেই নিজের চেনা ছন্দে ফেরেন এই ফরাসি ফরোয়ার্ড। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মাঝমাঠ থেকে মাইকেল ওলিসের বাড়ানো এক নিখুঁত ও দূরদর্শী পাস নিয়ন্ত্রণে নেন এমবাপ্পে। সামনে কেবল প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে একা পেয়ে দারুণ ফিনিশিংয়ে বল জালের ঠিকানায় পাঠান তিনি। এই গোলের মাধ্যমে চলতি আসরে তার গোলসংখ্যা এক লাফে উঁচুতে উঠে যায় এবং টুর্নামেন্টের গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে তিনি সবাইকে ছাড়িয়ে এককভাবে শীর্ষে চলে আসেন। এর ঠিক কিছুক্ষণ পর, ম্যাচের ঘড়িতে যখন এক ঘণ্টা পেরিয়েছে, তখনই প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে আরও একটি আক্রমণ খাটান তিনি। চমৎকার ড্রিবলিংয়ে ইংলিশ ডিফেন্ডারদের পরাস্ত করে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি তুলে নেন এই ফরাসি গোলমেশিন।
এই জোড়া গোলের সুবাদে চলতি বিশ্বকাপের গোলদাতার তালিকায় লিওনেল মেসির চেয়ে দুই গোলে এগিয়ে গেলেন এমবাপ্পে। তবে মেসির সামনে এখনো সুযোগ শেষ হয়ে যায়নি। রোববার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী স্পেনের বিপক্ষে মেগা ফাইনালে মাঠে নামবেন আর্জেন্টাইন জাদুকর। সেই ম্যাচে গোল করে এমবাপ্পেকে ধরে ফেলার কিংবা ছাড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে মেসির সামনে।
এই ম্যাচের জোড়া গোল এমবাপ্পেকে বিশ্বকাপের ইতিহাসের পাতায় অমর করে রাখল। ক্যারিয়ারে মাত্র তিনটি বিশ্বকাপ খেলেই ফরাসি এই ফুটবল তারকার মোট গোলসংখ্যা এখন দাঁড়াল ২২-এ। এর মাধ্যমে তিনি লিওনেল মেসির গড়া বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড ভেঙে এককভাবে চূড়ায় বসলেন। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, কিলিয়ান এমবাপ্পের বয়স এখন মাত্র ২৭ বছর। একজন ফুটবলারের ক্যারিয়ারের সোনালী সময় বিবেচনায় নিলে ২০৩০ সালের আগামী বিশ্বকাপেও তার খেলার পূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বিশ্বমঞ্চে তার গোলের এই মহাকাব্যিক সংখ্যা যে আরও অনেক দূর যাবে, তা বলাই বাহুল্য।