খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ই জুলাই ২০২৬, ৪:৫৩ পিএম
ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার পুরাতন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশে গড়ে ওঠা অন্তত দুই শতাধিক অবৈধ দোকান ও স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন এবং ফেনী সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন ছাগলনাইয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক। তবে অভিযানের পর ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, তাঁদের আগে কোনো লিখিত নোটিশ দেওয়া হয়নি এবং পর্যাপ্ত সময়ও দেওয়া হয়নি, ফলে অনেকেই মালামাল সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাননি।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পুরাতন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রশস্তকরণ কাজ বর্তমানে চলমান। সড়কের দুই পাশে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অস্থায়ী ও অবৈধ দোকান, টংঘর এবং অন্যান্য স্থাপনার কারণে উন্নয়নকাজ ব্যাহত হচ্ছিল। একই সঙ্গে এসব দখলদারির ফলে রাস্তার কার্যকর প্রস্থ কমে যাওয়ায় যানজট সৃষ্টি হচ্ছিল এবং পথচারীদের চলাচলেও নানা ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, মহাসড়কের ড্রেন, ফুটপাত এবং সড়কের সংরক্ষিত অংশ দখল করে ব্যবসা পরিচালনার কারণে জনদুর্ভোগ দীর্ঘদিন ধরে বাড়ছিল। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেলে ওই এলাকায় যান চলাচল ধীর হয়ে যেত। সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে অবৈধ স্থাপনা অপসারণ প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে ছাগলনাইয়া পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা তাজেল হোসেন হালদার জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে অভিযানের আগের দিন, অর্থাৎ রোববার সন্ধ্যায় এলাকায় মাইকিং করে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছিল। মাইকিংয়ের মাধ্যমে দোকান সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে ব্যবসায়ীদের বক্তব্য প্রশাসনের দাবির সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না। ফল ব্যবসায়ী আবদু সালাম বলেন, বহু বছর ধরে রাস্তার পাশে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে তিনি জীবিকা নির্বাহ করছেন। তাঁর দাবি, দোকানের জন্য পৌরসভার লাইসেন্স নেওয়া ছিল এবং বাজার কমিটিকেও নিয়মিত ফি বা ট্যাক্স পরিশোধ করা হতো। তা সত্ত্বেও কোনো লিখিত নোটিশ ছাড়াই মালামালসহ দোকান ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
একই ধরনের অভিযোগ করেন কাঁচামাল ব্যবসায়ী আবু তাহের। তিনি বলেন, হঠাৎ করেই প্রশাসনের লোকজন এসে দোকান উচ্ছেদ শুরু করেন। মালপত্র সরিয়ে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় অনেক পণ্য নষ্ট হয়েছে এবং এতে তাঁদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর ফারুক বলেন, পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা, ফুটপাত ও ড্রেন দখল করে ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছিল। এসব স্থাপনা শুধু সড়ক উন্নয়নকাজে বাধা সৃষ্টি করেনি, বরং যান চলাচল ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাফেরাও ব্যাহত করেছে। জনস্বার্থ, নিরাপদ সড়কব্যবস্থা এবং উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিশ্চিত করতেই এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করছেন, সড়ক প্রশস্তকরণ ও দখলমুক্তকরণ জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় হলেও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন বা বিকল্প ব্যবসার সুযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ থাকলে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব হতো। অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, সরকারি জমি ও সড়কের সংরক্ষিত অংশ দখলমুক্ত রাখা এবং নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যোগাযোগ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের অংশ। ফলে ভবিষ্যতেও অবৈধ দখলদারির বিরুদ্ধে প্রয়োজন অনুযায়ী এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য