খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনাল খেলা দেখাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক কলহের জেরে নোয়াখালীর সেনবাগে মো. আলাউদ্দিন রায়হান (২৭) নামের এক সৌদিপ্রবাসী যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) ভোররাতে উপজেলার ২ নম্বর কেশারপাড় ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কেশারপাড় (খাজুরিয়া) গ্রামের মাইজ্জা মিয়ার বাড়িতে এই করুণ ঘটনা ঘটে।
নিহত আলাউদ্দিন রায়হান ওই বাড়ির কুয়েতপ্রবাসী আব্দুল বারেকের ছেলে। তিনি নিজেও দীর্ঘদিন সৌদি আরবে ছিলেন। প্রায় এক বছর আগে প্রবাস জীবন শেষ করে তিনি স্থায়ীভাবে দেশে ফিরে আসেন। এরপর মাত্র পাঁচ-ছয় মাস আগে মারজান আক্তার মমতাজ (১৮) নামের এক তরুণীর সঙ্গে পারিবারিকভাবে তাঁর বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রথম দিকে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও একটি ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ঝগড়া যে এভাবে প্রাণ কেড়ে নেবে, তা কেউ ভাবতেও পারেনি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রবিবার রাতে আলাউদ্দিন রায়হান স্থানীয় কানকিরহাট বাজারে বন্ধুদের সঙ্গে আর্জেন্টিনা বনাম স্পেনের মধ্যকার বিশ্বকাপের মেগা ফাইনাল ম্যাচটি দেখতে যান। টানটান উত্তেজনার ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো এবং খেলা শেষে বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ-উল্লাস করার কারণে বাড়ি ফিরতে তাঁর বেশ দেরি হয়ে যায়। ভোররাতে রায়হান যখন বাড়ি ফেরেন, তখন এত রাতে বাইরে থাকা এবং দেরিতে ঘরে আসাকে কেন্দ্র করে স্ত্রী মারজান আক্তারের সঙ্গে তাঁর তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ঝগড়া চরম আকার ধারণ করে। তখন স্ত্রী মারজান স্বামীর ওপর তীব্র অভিমান ও ক্ষোভ প্রকাশ করে তাৎক্ষণিকভাবে বাবার বাড়িতে চলে যাওয়ার ঘোষণা দেন এবং ঘর থেকে বের হয়ে যান। স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্ত্রী যখন ঘর ছেড়ে চলে যাচ্ছিলেন, তখন রায়হান আবেগতাড়িত হয়ে আত্মহত্যা করার হুমকি দেন। কিন্তু মারজান বিষয়টিকে সাময়িক ক্ষোভ মনে করে গুরুত্ব না দিয়ে হেঁটে চলে যান।
এরপর পরিবারের অন্য সদস্যদের অগোচরে আলাউদ্দিন রায়হান নিজের শোবার ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দেন। ঘটনার কিছুক্ষণ পর স্ত্রী মারজান আক্তার কোনো কারণে পুনরায় ঘরে ফিরে আসেন। দরজা খুলে ভেতরে ঢুকা মাত্রই তিনি রায়হানকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করে ওঠেন। তাঁর চিৎকারে বাড়ির অন্য সদস্যরা ছুটে এসে রায়হানকে নামানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ হয়ে গেছে।
পরে পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে বিষয়টি জানানো হয়। ২ নম্বর কেশারপাড় ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ইব্রাহিম খলিল চৌধুরী বলেন, সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নিহতের স্বজনরা আমাকে ঘটনাটি জানান। আমি দ্রুত ওই বাড়িতে গিয়ে রায়হানকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি সেনবাগ থানা পুলিশকে অবহিত করা হলে সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুর রহিম সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।