যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার মধ্যেই গাজা সিটিতে একটি বাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় এক নারী ও তাঁর তিন মেয়ে নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা। মঙ্গলবার ভোরে গাজা সিটির দক্ষিণাঞ্চলের আল থালাথিনি স্ট্রিটে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলায় নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে একটি পরিবারের চার সদস্যের প্রাণহানির এই ঘটনায় গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হামলার পর ওই এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং আরও কেউ হতাহত হয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা অব্যাহত রয়েছে। তাদের দাবি, যুদ্ধবিরতির পরও বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত হামলার ঘটনা ঘটছে এবং এসব ঘটনায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে পরিচালিত হামলাগুলোতে এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ১৫৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৩ হাজার ৭৫৬ জন। মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এসব হামলার অনেকগুলোই আবাসিক এলাকা ও বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর প্রভাব ফেলেছে।
গাজায় দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাতের সামগ্রিক মানবিক পরিস্থিতিও অত্যন্ত সংকটপূর্ণ বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। তাদের দেওয়া তথ্য অনুসারে, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে গাজা উপত্যকায় অন্তত ৭৩ হাজার ২৫০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৫১ জন।
যুদ্ধের কারণে গাজার আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, পানি সরবরাহ ও যোগাযোগব্যবস্থাসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ফলে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথ কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে, ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবরের যুদ্ধবিরতি চুক্তির সময় গাজা উপত্যকার প্রায় ৫৩ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। পরবর্তী সময়ে সেই নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার পরিমাণ বেড়ে ৭০ শতাংশের বেশি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে গাজার বিভিন্ন অংশে বাস্তুচ্যুত মানুষের ফিরে যাওয়া এবং নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।
সাম্প্রতিক হামলায় একই পরিবারের মা ও তিন মেয়ের নিহত হওয়ার ঘটনা যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। আন্তর্জাতিক মহল দীর্ঘদিন ধরে গাজায় বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা, মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। তবে মাঠপর্যায়ে সংঘাত ও হামলার খবর অব্যাহত থাকায় উপত্যকাটির সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এখনও কাটেনি।
নতুন এই হামলার বিষয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ, লক্ষ্যবস্তু এবং পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।