খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা ও প্রবৃদ্ধির ধীরগতি সত্ত্বেও ২০২৬ সালে বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে অনেক বেশি গতিতে বাড়ছে এশিয়ার বীমা বাজার। বৈশ্বিক পুনর্বীমা প্রতিষ্ঠান ‘সুইস রে ইনস্টিটিউট’ (Swiss Re Institute)-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর বিশ্বব্যাপী প্রকৃত বীমা প্রিমিয়াম প্রবৃদ্ধি ১.৩ শতাংশে নেমে আসতে পারে। তবে এই বৈশ্বিক মন্দার বিপরীতে দাঁড়িয়ে বিশ্বের শীর্ষ ২০টি প্রধান বীমা বাজারের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭.১% প্রকৃত প্রবৃদ্ধি নিয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছে ভারত।
এশিয়ায় বীমা বাজারের এই শক্ত অবস্থানের পেছনে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে ভারত ও চীনের লাইফ বা জীবন বীমার শক্তিশালী চাহিদা।
ভারত: কর ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার (IRDAI) নীতিগত সংস্কারের ফলে ২০২৬ সালে ভারতের লাইফ ইন্স্যুরেন্স প্রিমিয়াম প্রায় ৭% বৃদ্ধি পাবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য বীমার ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা এবং মোটর বীমার ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের নন-লাইফ বা সাধারণ বীমা খাতকে শক্তিশালী রাখছে।
চীন: চীনের লাইফ ইন্স্যুরেন্স বাজার ২০২৬ সালে ৬% প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে, যা ২০২৫ সালের ৯.৪% প্রবৃদ্ধির তুলনায় কিছুটা কম। ব্যাংকিং আমানত পরিপক্ক হওয়া এবং আকর্ষণীয় সঞ্চয়ভিত্তিক পণ্যের কারণে দেশটিতে জীবন বীমার চাহিদা বজায় রয়েছে। তবে অর্থনৈতিক শ্লথগতি ও ভোক্তাদের আস্থা হ্রাসের কারণে নন-লাইফ প্রবৃদ্ধি ৩.৭% থেকে কমে ২.৯%-এ নামতে পারে।
| অঞ্চল / দেশ | ২০২৬ সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধি (লাইফ) | ২০২৬ সম্ভাব্য প্রবৃদ্ধি (নন-লাইফ) | প্রধান চালিকাশক্তি / কারণ |
| ভারত | ~৭.০% | উচ্চ প্রবৃদ্ধি | নীতিগত সংস্কার, হেলথ ও মোটর বীমার চাহিদা |
| চীন | ~৬.০% | ২.৯% | সঞ্চয়ভিত্তিক পণ্য; তবে দুর্বল ভোক্তা আস্থা |
| উন্নত এশিয়া-প্যাসিফিক | ২.৫% | ২.১% | মূল্যস্ফীতি ও বয়স্ক জনসংখ্যার প্রভাব |
| জাপান | ০.৩% | – | জনসংখ্যা হ্রাস ও বার্ধক্যের কারণে সীমিত চাহিদা |
| অস্ট্রেলিয়া | ০.৭% | ঊর্ধ্বমুখী | প্রাকৃতির দুর্যোগে সম্পত্তি বীমার নতুন মূল্য নির্ধারণ |
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তিতে বিশ্বব্যাপী বিশাল মেগা-বিনিয়োগের ফলে এশিয়াজুড়ে বিশেষায়িত বীমার নতুন চাহিদা তৈরি হচ্ছে। এশীয় সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ৭৪% বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রধান সুবিধাভোগী তাইওয়ান এবং দক্ষিণ কোরিয়া। একই সাথে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া সেমিকন্ডাক্টর ও বড় ডেটা সেন্টারের নতুন হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।
ঝুঁকির নতুন মাত্রা: বিশাল আকারের ডেটা সেন্টার এবং তাদের প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ অবকাঠামো এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত হওয়ায় উচ্চমানের ঝুঁকি তৈরি করছে। এর ফলে প্রপার্টি, ইঞ্জিনিয়ারিং, লায়াবিলিটি, সাইবার এবং বিজনেস ইন্টারাপশন (ব্যবসায়িক স্থবিরতা) সংক্রান্ত বীমার প্রিমিয়াম কভারেজের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
বিদ্যমান উচ্চ সুদের হার এশিয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ থেকে আয় বাড়াতে সহায়তা করছে। তবে মুদ্রা ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি ও সরবরাহ শৃঙ্খল (Supply chain) ব্যাহত হওয়ায় যানবাহন মেরামত, নির্মাণ ও সম্পত্তির ক্ষতিপূরণ বাবদ বীমা দাবি (Claims) পরিশোধের খরচ বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে যেসব দেশ জ্বালানি আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করে, তাদের অ-জীবন বীমা খাতের লাভজনকতায় এটি চাপ সৃষ্টি করছে।