খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
গাজীপুরের পর এবার সাভারে ঘটল মর্মান্তিক এক গণপিটুনির ঘটনা। সাভার পৌর এলাকার উলাইলে চুরির অপবাদ বা অন্য কোনো তুচ্ছ অযুহাতে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী জেলেকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত ওই যুবকের নাম আবুল খায়ের পাটোয়ারী (৩০)। সোমবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর মঙ্গলবার দুপুরে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
নিহত আবুল খায়ের পাটোয়ারী পেশায় একজন জেলে ছিলেন এবং তিনি দৈহিকভাবে প্রতিবন্ধী ছিলেন। তিনি চাঁদপুর জেলার সদর থানার কল্যাণপুর দাসাদী গ্রামের লোকমান পাটোয়ারীর ছেলে। কর্মসূত্রে বা কাজের খোঁজে তিনি সাভারের ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্য মতে, সোমবার সন্ধ্যায় সাভার পৌর এলাকার উলাইল কুদঘর এলাকায় নুরুজ্জামান নামের এক গ্যারেজ মালিক ও তার সহযোগীরা মিলে আবুল খায়েরকে বেধড়ক মারধর করে। গণপিটুনির শিকার হয়ে গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযুক্তরা নিজেরাই আহত খায়েরকে উদ্ধার করে দ্রুত সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানকার জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরপরই আইনি জটিলতা ও গ্রেফতার এড়াতে লাশটি হাসপাতালে রেখেই কৌশলে সটকে পড়ে অভিযুক্তরা।
খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা-পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে লাশ রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
ঘটনার পর নিহতের স্বজনদের উপস্থিতিতে বা পুলিশের প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে সাভার মডেল থানায় একটি অজ্ঞাতনামা হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর পুলিশি তদন্ত জোরদার করা হয় এবং সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত গ্যারেজ মালিক নুরুজ্জামান ও তার সহযোগী রিকশাচালক সবুজকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ জানান, ঠিক কী কারণে বা কোন পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ওই প্রতিবন্ধী যুবকের ওপর এই নির্মম হামলা চালানো হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। মূল কারণ উদঘাটনে পুলিশ গভীরভাবে কাজ করছে। গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত বাকিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।