খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
২০২৬ বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে স্পেনের শিরোপা জয়ের রাতে এক অনন্য আবেগ ও মিশ্র অনুভূতির মধ্য দিয়ে গেছেন তরুণ রক্ষণভাগের সেনানি পাউ কুবার্সি। একপাশে বিশ্বজয়ের অনাবিল আনন্দ আর টুর্নামেন্টের ‘সেরা তরুণ খেলোয়াড়’ হওয়ার বড় স্বীকৃতি; অন্যপাশে নিজের ফুটবল জীবনের শৈশবের নায়ক লিওনেল মেসিকে পরাজিত ও অশ্রুসিক্ত হতে দেখার বেদনা। বার্সেলোনা থেকে উঠে আসা এই ১৯ বছর বয়সি তারকা খোলামেলাভাবেই জানিয়েছেন, দেশের বিজয়ের উদযাপনের মধ্যেও মেসির এই বিদায় তাকে কিছুটা ব্যথিত করেছে।
বিশ্বকাপের ফাইনাল শেষে এক সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে স্প্যানিশ এই সেন্টার-ব্যাক মেসিকে প্রথমবারের মতো কাছ থেকে দেখার অনুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন:
“আমি আগে কখনো মেসিকে সামনে থেকে দেখিনি। ড্রেসিংরুমে যখন তাকে শুভেচ্ছা জানালাম, তখন মনে হচ্ছিল—এটা কি সত্যিই ঘটছে? এরপর অবশ্য মাঠে নেমে শুধু জয়ের দিকেই মনোযোগ দিয়েছি।”
মহাতারকা মেসির মুখোমুখি দাঁড়ানো এবং একই গ্রাউন্ডে লড়াই করাকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় প্রাপ্তি ও সম্মান হিসেবে দেখছেন কুবার্সি। ম্যাচের স্মৃতিচারণ করে তিনি আরও যোগ করেন:
“আমি বলতে পারি, তার সঙ্গে একই মাঠ ভাগাভাগি করা আমার জন্য অসাধারণ এক সৌভাগ্য। আমি খারাপও অনুভব করি, কারণ তিনি আমার আদর্শ এবং তাকে হারতে দেখতে আমার ভালো লাগে না। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা জিতেছি, আর সেটাও আমাকে ভীষণ আনন্দ দেয়।”
পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে অভিজ্ঞ আইমেরিক লাপোর্তের সঙ্গে মিলে স্পেনের ব্যাকলাই্নে এক দুর্ভেদ্য প্রাচীর গড়ে তুলেছিলেন কুবার্সি। রক্ষণভাগে তার এই পরিপক্ব ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ওপর ভর করেই স্পেন বিশ্বকাপে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখে।
| কুবার্সির বিশ্বকাপ ২০২৬ পরিসংখ্যান ও অর্জন | বিস্তারিত তথ্য |
| জাতীয় দল | স্পেন |
| পজিশন | সেন্টার-ব্যাক (ডিফেন্ডার) |
| বয়স | ১৯ বছর |
| ডিফেন্সিভ পার্টনার | আইমেরিক লাপোর্তে |
| ব্যক্তিগত পুরস্কার | বিশ্বকাপের সেরা তরুণ খেলোয়াড় (Best Young Player) |
| নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী | লামিন ইয়ামাল (স্পেন) |
নিজের ক্লাব ও জাতীয় দলের সতীর্থ লামিন ইয়ামালের মতো প্রতিভাকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপের সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের গোল্ডেন বয় পুরস্কারটি নিজের ঝুলিতে তোলেন কুবার্সি।
মাঠের লড়াই যাই হোক না কেন, ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা কিংবদন্তির প্রতি কুবার্সির এই অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ও ভালবাসা বিশ্ব ফুটবলের সৌন্দর্যকেই আরও একবার উঁচুতে তুলে ধরলো।