খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
সারাদেশে ফের বিপজ্জনক রূপ নিতে শুরু করেছে মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগ। বিশেষ করে বর্ষাকালে এডিস মশার বংশবৃদ্ধি মাত্রাতিরিক্ত হারে বাড়ায় প্রতিনিয়ত অসংখ্য মানুষ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তির তথ্যমতে, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন নতুন ৩৩৮ জন রোগী।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে ডেঙ্গু বিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে পরিস্থিতির এই তাজা উপাত্ত তুলে ধরা হয়।
বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা গেছে, গত একদিনে মারা যাওয়া একমাত্র ব্যক্তিটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারান। ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকায় যেভাবে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, তাতে নাগরিক জীবনে গভীর দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। নগরের অনেক স্থানে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা জমে থাকা, ড্রেনে পানি জমে থাকা এবং বাসা-বাড়ির স্বচ্ছ পানি সময়মতো পরিষ্কার না করার ফলেই মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন কীটতত্ত্ববিদেরা।
চলতি বছরের প্রথম থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গুর সার্বিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ বছর সারাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ৩৮ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। অন্যদিকে জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ১৯৫ জনে। রোগীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকায় রাজধানী ঢাকার বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোর পাশাপাশি প্রান্তিক অঞ্চলের জেলা হাসপাতালগুলোতেও রোগীদের সামাল দিতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে।
বর্ষা মৌসুমে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতেই এডিস মশার দ্রুত প্রজনন ঘটে। বিশেষ করে ছাদে রাখা ফুলের টব, খোলা ড্রাম, প্লাস্টিকের বোতল বা ডাবের খোসায় সামান্য পানি জমলেও তা এডিসের লার্ভা জন্ম দেওয়ার উপযুক্ত স্থানে পরিণত হয়। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল মশক নিধন ওষুধ ছিটানোর ওপর নির্ভর না করে প্রতিটি পরিবারকে নিজেদের বাসাবাড়ি পরিষ্কার রাখা নিশ্চিত করতে হবে। যেকোনো পাত্রে জমে থাকা পানি তিন দিনের বেশি রাখতে দেওয়া যাবে না। তাছাড়া জ্বর বা অন্যান্য লক্ষণ দেখা দিলে নিজে নিজে ওষুধ না খেয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।