খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
রাজধানী ঢাকায় ক্রমবর্ধমান অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের অবস্থান চিহ্নিতকরণ এবং সাধারণ নগরবাসীর জীবনযাত্রার সার্বিক নিরাপত্তা সুসংহত করতে এক বড় ধরনের সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগ। নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চালানো এই বিশেষ ঝটিকা অভিযানে পেশাদার ছিনতাইকারী, মাদক কারবারি, চাঁদাবাজ এবং হত্যা ও ডাকাতি মামলার সাজাপ্রাপ্ত বা পলাতক আসামিসহ মোট ৬২ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের আশঙ্কায় আইনের সঙ্গে সংঘাত বা অনিয়মে জড়িয়ে পড়া এক শিশুকে বিশেষ সতর্কতামূলক প্রক্রিয়ায় পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই অভিযান ও পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের বিষটি বিস্তারিত নিশ্চিত করা হয়।
ডিএমপি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, তেজগাঁও বিভাগের আওতাধীন ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ থানা এলাকা—মোহাম্মদপুর, হাতিরঝিল, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, তেজগাঁও, শেরেবাংলা নগর এবং আদাবরে পর্যায়ক্রমে ও সুনির্দিষ্ট খবরের ভিত্তিতে এই সমন্বিত চিরুনি অভিযান চালানো হয়। সাম্প্রতিক সময়ে মহানগরীর অপরাধ পরিসংখ্যান ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পর্যালোচনা করে পুলিশ প্রশাসন এই সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
অভিযানের স্থানভিত্তিক প্রাপ্ত উপাত্ত থেকে দেখা যায়, ঘনবসতিপূর্ণ মোহাম্মদপুর থানা এলাকা থেকে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ১৫ জন চিহ্নিত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর পরেই হাতিরঝিল থানা পুলিশ নিজস্ব অধিক্ষেত্রে অভিযান চালিয়ে ১২ জন আসামিকে সাজা ও বিচারাধীন পরোয়ানার ভিত্তিতে আইনের আওতায় নিয়ে আসে। এছাড়া শিল্পাঞ্চল এলাকা হওয়ায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা ১০ জনকে গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হয়।
অন্যদিকে বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভারসাম্যপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত তেজগাঁও থানা থেকে ৯ জন এবং শেরেবাংলা নগর থানা এলাকা থেকে ৯ জনসহ মোট ১৮ জন বিভিন্ন মামলায় পরোয়ানাভুক্ত ও অপরাধে সম্পৃক্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। আর বিভাগের আওতাধীন আদাবর থানা পুলিশ নিজস্ব তৎপরতায় ৭ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃত প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের বাইরে অপরাধমূলক কাজে যুক্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা এক শিশুকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালা মেনে প্রচলিত শিশু আইনের বিশেষ ধারায় আইনি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, যেন পরবর্তীতে সংশোধনের সুযোগ তৈরি করা যায়।
ডিএমপির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করা হয়, রাজধানীর মূল সড়ক, অলিগলি কিংবা বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে নগরবাসীর নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত ও জননিরাপত্তা সুনিশ্চিত করাই এই সাঁড়াশি অভিযানের মূল লক্ষ্য। দীর্ঘদিনের বকেয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল, সক্রিয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠী প্রতিহতকরণ এবং পেশাদার অপরাধ চক্র ভেঙে দেওয়ার এই ধারাবাহিক প্রয়াস ভবিষ্যতে তেজগাঁও বিভাগের আওতাধীন অন্যান্য থানাগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।
পুলিশ কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলার যাবতীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের এই কঠোর মনোভাবের ফলে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।