খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় জমি-সংক্রান্ত পুরোনো বিরোধের জের ধরে একটি জামে মসজিদের প্রধান প্রবেশপথ বাঁশের বেড়া দিয়ে আটকে দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এতে স্বাভাবিকভাবে মসজিদে যাতায়াত করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় অসংখ্য মুসল্লি।
সোমবার (২০ জুলাই) উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ভূঁইয়াকান্দি দক্ষিণপাড়া বাইতুল আমান জামে মসজিদ এলাকায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। স্থানীয় অধিবাসী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সার্বজনীন এই উপাসনালয়ের যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৮২ সালে একই পরিবারের তিন ভাই—শফিকুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম ও মনির হোসেন সর্বসম্মতিক্রমে বাইতুল আমান জামে মসজিদের নামে ৩ শতাংশ জমি দান করেন। পরবর্তীতে ভূমি রেকর্ড-সংক্রান্ত আইনি জটিলতা নিরসনে শফিকুল ইসলাম ও মনির হোসেন যৌথভাবে আরও ১ শতাংশ জমি মসজিদের নামে অতিরিক্ত দান করেন। সেই থেকে দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দানকৃত জমিতেই এলাকাবাসীর সহযোগিতায় একটি পাকা ভবন নির্মিত হয় এবং নিয়মিত ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, বিগত সাত-আট বছর ধরে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম মসজিদের যেকোনো ধরনের উন্নয়নমূলক কাজে ক্রমাগত বাধা প্রদান করে আসছেন। এর আগে মসজিদের মালিকানাধীন বেশ কিছু গাছ কেটে নেওয়ার মতো অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সর্বশেষ সোমবার সকালে মুসল্লিরা এসে দেখতে পান, মসজিদের প্রধান ফটক ও চলাচলের রাস্তা বাঁশের শক্ত বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ইদ্রিস আলী প্রধান জানান, এলাকাবাসীর যৌথ প্রচেষ্টায় আজ এখানে সুন্দর একটি ভবন দাঁড়িয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করেই রফিকুল ইসলাম দাবি করতে শুরু করেন যে, মসজিদের একটি অংশ তার নিজস্ব জমির ওপর পড়েছে। বিষয়টি সামাজিকভাবে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চালানো হলেও তিনি কোনো তোয়াক্কা না করে হঠাৎ করে পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাহানুর আলমও দ্রুত এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে স্থানীয় প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
অন্যদিকে সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ নাকচ করে অভিযুক্ত মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি মসজিদের স্বত্বাধিকারভুক্ত জায়গায় নয়, বরং নিজ মালিকানাধীন জমিতেই বেড়া দিয়েছেন। তার পাল্টা অভিযোগ, কাঠামোগতভাবে মসজিদের মূল ভবনের কিছু অংশ তার জমির ভেতর ঢুকে গেছে। উপরন্তু, মসজিদ কমিটির সদস্যরা তাকে মারধর ও মসজিদ এলাকা থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন দাবি করে তিনি সম্প্রতি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মসজিদের প্রধান ফটক বন্ধের মতো সংবেদনশীল বিষযটি নিয়ে কথা বললে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, কোনো ধর্মীয় উপাসনালয় বা সাধারণ মানুষের চলাচলের মূল পথ অবরুদ্ধ করার সুযোগ নেই। উভয় পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে খুব দ্রুত এই সমস্যার একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করবে উপজেলা প্রশাসন।