খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
টাকার বিনিময়ে এক রোহিঙ্গা নাগরিককে ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্ট তৈরিতে সহায়তা করার অভিযোগে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাচন অফিসে কর্মরত তিন আউটসোর্সিং কর্মচারীকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তদন্তে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলায় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে তাঁদের চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নেত্রকোনা জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন।
চাকরিচ্যুত হওয়া কর্মচারীরা হলেন— কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাচন অফিসের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাঞ্চন মিয়া ও আরিফ মিয়া এবং স্ক্যানিং অপারেটর স্মরণ সরকার হীরা। তাঁরা সবাই একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অধীনে আউটসোর্সিংয়ে নির্বাচন অফিসে কর্মরত ছিলেন।
জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন জানান, কলমাকান্দার রামনাথপুর পাগলা এলাকায় এক রোহিঙ্গা নাগরিককে অবৈধভাবে অর্থের বিনিময়ে এনআইডি ও পাসপোর্ট তৈরিতে সহায়তা করার চাঞ্চল্যকর ঘটনা সামনে আসে। এছাড়া নেত্রকোনা সদরেও একই কৌশলে আরেক রোহিঙ্গাকে পরিচয়পত্র তৈরি করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তাদের অলক্ষ্যে বা যোগসাজশে এমন অপরাধ সংঘটিত হওয়ার খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ময়মনসিংহ আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ ও গভীর তদন্ত পরিচালনা করেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় ওই তিন আউটসোর্সিং কর্মীকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে এ ঘটনায় মূল নির্বাচন কর্মকর্তাদের কারও বিরুদ্ধে এখনও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আরও জানান, জেলায় এনআইডি জালিয়াতি সম্পর্কিত আরও কয়েকটি অভিযোগের তদন্ত প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
এদিকে চাকরিচ্যুত হওয়ার পর ডাটা এন্ট্রি অপারেটর কাঞ্চন মিয়ার বিরুদ্ধে এক স্থানীয় সংবাদকর্মীকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংবাদ প্রকাশের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে কাঞ্চন মিয়া সোমবার দৈনিক কালের কণ্ঠের নেত্রকোনা প্রতিনিধি ইবাদ হোসেনকে ফোনে হুমকি প্রদান করেন। এ ঘটনায় মঙ্গলবার নেত্রকোনা মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
হুমকির বিষয়ে কাঞ্চন মিয়া নিজের ভুল স্বীকার করে জানান, চাকরি হারানোর চরম মানসিক চাপ ও ক্ষোভের মুখে পড়ে তিনি মেজাজ হারিয়ে ফেলেছিলেন এবং পরে নিজের ভুলের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করেছেন। নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের পুলিশি অভিযোগ পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।