খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে প্রতিবেশী এক যুবকের সঙ্গে এক গৃহবধূর চলে যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ওই গৃহবধূকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার পেছনে পরকীয়ার সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করেছেন তার স্বামী। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেছেন, বাড়ি ছাড়ার সময় স্ত্রী ঘর থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় তিনি ঈশ্বরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের বৃন্দস্থান গ্রামে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) গৃহবধূর স্বামী মণীন্দ্র চন্দ্র দে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। তার অভিযোগে প্রতিবেশী রুদ্র চন্দ্র দের সঙ্গে তার স্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
মণীন্দ্র চন্দ্র দে জানান, ঝর্ণা রানীর সঙ্গে তার প্রায় সাত বছরের দাম্পত্য জীবন। তাদের সংসারে ছয় বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। পরিবারের ভরণপোষণ ও জীবিকার প্রয়োজনে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির বাইরে একটি হোটেলে কর্মচারী হিসেবে কাজ করে আসছেন। তার দাবি, এই সুযোগে প্রতিবেশী রুদ্র চন্দ্র দের সঙ্গে তার স্ত্রীর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়।
স্বামীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১ জুলাই ঝর্ণা রানী বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। পরে তিনি জানতে পারেন, প্রতিবেশী রুদ্র চন্দ্র দের সঙ্গে তিনি চলে গেছেন। মণীন্দ্রের দাবি, বাড়ি ছাড়ার সময় তার স্ত্রী প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ ৪৫ হাজার টাকা সঙ্গে নিয়ে গেছেন।
মণীন্দ্র আরও বলেন, স্ত্রী ও প্রতিবেশী যুবকের মধ্যে সম্পর্কের বিষয়টি তিনি আগেই জানতে পেরেছিলেন। এরপর তিনি স্ত্রীকে এ ধরনের সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করেন। পাশাপাশি বিষয়টি রুদ্র চন্দ্রের পরিবারের সদস্যদেরও জানিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে তার অভিযোগ, সতর্ক করার পরও পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং শেষ পর্যন্ত তার স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে যান।
অন্যদিকে, রুদ্র চন্দ্রের পরিবারের পক্ষ থেকে ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। তাদের দাবি, মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে ঝর্ণা রানী ও রুদ্র চন্দ্রের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ঝর্ণা রানী তার স্বামীকে তালাক দিয়েছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন। তবে এ দাবির সমর্থনে কোনো লিখিত বা আইনগত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ফলে গৃহবধূ স্বেচ্ছায় বাড়ি ছেড়েছেন, নাকি তাকে অন্য কোনোভাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছে—এ বিষয়টিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। একইভাবে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের সত্যতাও তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম জানান, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা তৈরি হলেও অভিযোগের সব পক্ষের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষের দাবিকেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পুলিশি তদন্তের পরই গৃহবধূর বাড়ি ছাড়ার প্রকৃত কারণ, তার বর্তমান অবস্থান এবং স্বর্ণালংকার ও টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।