খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
ফুটবল মাঠে গতি, নিখুঁত ড্রিবলিং আর গোল করার দারুণ ক্ষমতার জন্য সারাবিশ্বে আলাদা পরিচিতি রয়েছে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের। খেলার ধরণ দিয়ে প্রতিনিয়ত শিরোনামে এলেও ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড এবার আলোচনায় এসেছেন এক ভিন্ন কারণে। মাঠের পারফরম্যান্স নয়, বরং কসমেটিক চিকিৎসার মাধ্যমে নিজের বাহ্যিক চেহারায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনে সবাইকে চমকে দিয়েছেন তিনি।
২৬ বছর বয়সী এই তারকা সম্প্রতি ‘চিন হারমোনাইজেশন’ নামের একটি বিশেষ নান্দনিক সৌন্দর্যবর্ধন চিকিৎসা করিয়েছেন। এই চিকিৎসার মূল উদ্দেশ্য হলো মুখের অন্যান্য অংশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে থুতনি এবং চোয়ালের গঠনকে আরও ধারালো ও সুনির্দিষ্ট করে তোলা। কোনো ধরনের জটিল অস্ত্রোপচার ছাড়াই ফিলার ব্যবহারের মাধ্যমে এই কাজ সম্পন্ন করা হয়। চিকিৎসার পর তার চোয়াল ও থুতনির গঠনে বেশ স্পষ্ট পরিবর্তন ফুটে উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিনিসিয়ুসের নতুন রূপের ছবি প্রকাশ পাওয়ার পরপরই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে শুরু হয় নানা রকমারি আলোচনা। ভক্তদের অনেকেই রসিকতা করে বলছেন, নতুন চেহারা পাওয়ার পর ভিনিসিয়ুসকে নাকি ব্রাজিল ও চেলসির সাবেক মিডফিল্ডার রামিরেসের মতো দেখাচ্ছে। মজার এই আলোচনা ফুটবলভক্তদের গণ্ডি পেরিয়ে রামিরেসের নিজের নজরও কেড়েছে। এই নতুন লুকের সঙ্গে চেহারার তুলনা নিয়ে করা আলোচনায় বেশ উপভোগের সাথেই অংশ নিয়েছেন রামিরেস নিজে।
জানা গেছে, সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছে ব্রাজিলের গইয়ানিয়া শহরের একটি ক্লিনিকে। তবে এই চিকিৎসার নেতৃত্ব দিতে বিশেষভাবে আমন্ত্রণ জানিয়ে উড়িয়ে আনা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিভিত্তিক চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ আলেসান্দ্রো আলারকাওকে। তার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানেই ব্রাজিলিয়ান তারকা নিজের এই পরিবর্তন সম্পন্ন করেন।
এই শারীরিক পরিবর্তনের সময়টাও বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের সময়টা মোটেই ভালো যায়নি। শেষ ষোলোর ম্যাচ থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। সেই চরম হতাশাজনক সফরের পরই এই চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। জাতীয় দলের পারফরম্যান্স হতাশাজনক হলেও ভিনিসিয়ুসের ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান ছিল বেশ উজ্জ্বল। টুর্নামেন্টের পাঁচ ম্যাচে মাঠে নেমে তিনি চারটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে একটি গোল করিয়েছেন। সব মিলিয়ে টুর্নামেন্টে ব্রাজিলের সবচেয়ে কার্যকর ফুটবলারদের একজন ছিলেন তিনিই।
বিশ্বকাপের পর্ব আপাতত শেষ হওয়ায় ভিনিসিয়ুস এখন আবার পুরোপুরি ক্লাবের দিকে নজর দিচ্ছেন। স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ আর মাত্র এক বছর বাকি রয়েছে। তবে স্পেনে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তার কিছু দেখছেন না সমর্থকরা। কারণ ক্লাবের সাথে নতুন চুক্তি বাড়ানো নিয়ে ইতিবাচক কথাবার্তা ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। রিয়াল মাদ্রিদ সভাপতি ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ স্পষ্ট সংকেত দিয়েছেন যে, তারা এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডকে দীর্ঘ মেয়াদের জন্য ক্লাবেই রেখে দিতে আগ্রহী।