খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে অচেতন অবস্থায় ফেলে রাখার ঘটনায় থানা পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। লিখিত এজাহার হাতে নিয়ে বারংবার ধাওয়া-ধাপ্পি করেও বিচার পাননি ভুক্তভোগী পরিবার। উপরন্তু ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নানা বাহানায় দিন পার করে শেষমেশ তাদের আদালতের শরণাপন্ন হতে বলেন। অবশেষে কোনো উপায় না পেয়ে ন্যায়বিচারের আশায় জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) বরোবরে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কিশোরীর মা।
স্বজনদের দেওয়া বিবরণ ও জেলা পুলিশ সুপারের কাছে জমা পড়া লিখিত নথি থেকে জানা যায়, গত ১ জুলাই রাতে রাণীশংকৈল উপজেলার নন্দুয়াড় ইউনিয়নের জওগাঁও গ্রাম থেকে মিশর-প্রবাসীর ১৪ বছর বয়সী নবম শ্রেণি পড়ুয়া কন্যা আচমকা নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়ে চারদিকে তন্ন তন্ন করে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির অদূরে এক নির্জন জায়গায় ওই কিশোরীকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাতে তাকে দ্রুত রাণীশংকৈল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়।
অভিযোগপত্র সূত্রে জানা গেছে, একই গ্রামের বখাটে তিন কিশোর স্কুলে যাওয়া-আসার পথে ওই ছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। রাস্তায় গতিরোধ করা, কুপ্রস্তাব দেওয়া ও কটু কথা বলা ছিল তাদের নিত্যদিনের কাজ। বিষয়টি বখাটেদের মা-বাবাকে জানানো হলেও তারা কোনো ব্যবস্থা নেননি। ১ জুলাই রাতে মেয়েটি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাড়ির বাইরের শৌচাগারে গেলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা ওই তিন বখাটে তার মুখ চেপে ধরে এবং নাকে নেশাজাতীয় ওষুধ শুঁকিয়ে অচেতন করে তুলে নিয়ে যায়। পরে শৌচাগারের পেছনে তাকে ফেলে রেখে চম্পট দেয়। পরে জ্ঞান ফিরলে কিশোরী পরিবারের কাছে গোটা ঘটনার বিবরণ দেয়।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা রাণী আক্তার বাদী হয়ে একই গ্রামের পাভেল (১৬), বাদল ওরফে উপাসু (১৭) এবং রিমন আলীকে (১৫) আসামি করে রাণীশংকৈল থানায় একটি এজাহার জমা দেন। প্রথম দিকে পুলিশ আইনি ব্যবস্থার কথা বললেও ওসির টালবাহানায় দিন পার হতে থাকে। একপর্যায়ে ওসি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তিনি এই মামলা নেবেন না এবং তাদের আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
কিশোরীর মায়ের অভিযোগ, অভিযুক্ত বখাটেরা স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও নন্দুয়াড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জমিরুল ইসলামের লোক হিসেবে পরিচিত। সাবেক এই ইউপি চেয়ারম্যানের সরাসরি হস্তক্ষেপে ও প্রভাবে পুলিশ প্রভাবান্বিত হয়ে মামলা নিতে অনীহা দেখায়। উপরন্তু পুলিশ তাদের ডেকে এনে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসা করে নেওয়ারও পরামর্শ দেয় বলে তিনি জানান। তবে অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জমিরুল ইসলাম দাবি করেন, তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার নাম জড়িয়েছে এবং তিনি পুলিশকে কোনো নির্দেশ দেননি।
মামলা না নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী সংক্ষেপে জানান, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ঘটনাটি তার কাছে সাজানো মনে হয়েছে, তাই এজাহারটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়নি।
এদিকে ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহাম্মদ খোদাদাদ হোসেন জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী পরিবারের লিখিত আবেদন পেয়ে জেলা পুলিশ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। কোনো পুলিশ কর্মকর্তার অবহেলা বা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।