খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
দেশজুড়ে মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর ছড়িয়ে পড়া থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে আরও একজন মারা গেছেন। একই সময়ে চিকিৎসার জন্য দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৫০ জন নতুন রোগী। বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর এমন ধারাবাহিক বাড়বাড়ন্তে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও আতঙ্ক দিন দিন তীব্র হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশের এই হালনাগাদ পরিস্থিতি জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত একদিনে নতুন করে ভর্তি হওয়া ৪৫০ জন ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে সিংহভাগই ঢাকা বিভাগের। নতুন আক্রান্তদের বিভাগভিত্তিক হিসাব করলে দেখা যায়, ঢাকায় ১৯৫ জন, খুলনা বিভাগে ৬৬ জন, বরিশাল বিভাগে ৬৪ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ৫১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া রংপুর বিভাগে ৪৪ জন, ময়মনসিংহে ১৯ জন ও রাজশাহী বিভাগে ১১ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত পুরো দেশের পরিসংখ্যান মেলালে দেখা যায়, এ বছর মোট ১২ হাজার ২০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০ হাজার ৯১১ জন সুস্থ হয়ে ইতোমধ্যে নিজ নিজ বাড়ি ফিরে গেছেন। কিন্তু আক্রান্তের পাশাপাশি প্রাণহানির তালিকাও বড় হচ্ছে। নতুন একজনের মৃত্যুর মাধ্যমে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মোট ৩৯ জনের প্রাণ গেল।
প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিভাগভিত্তিক আক্রান্তের শীর্ষে রয়েছে ঢাকা, যার পর পরই স্থান পেয়েছে খুলনা ও বরিশাল বিভাগ। বিশেষ করে শহরাঞ্চলের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও এডিস মশার বিস্তার উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, বর্ষা মৌসুমে চারপাশের আবহাওয়া মশার বংশবৃদ্ধির জন্য খুব অনুকূল হয়ে ওঠে। বাসাবাড়ির ছাদ, ড্রাম, ফুলের টব কিংবা ডাবের খোসায় জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশা দ্রুত ডিম পাড়ে। অসচেতনতার কারণে সাধারণ মানুষ সহজেই মশার কামড়ে ডেঙ্গু ভাইরাসে সংক্রমিত হচ্ছেন। স্বাস্থ্যকর্মীরা পরামর্শ দিচ্ছেন, শরীরে জ্বর অনুভূত হলেই পরীক্ষা করানো জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে রক্তে প্লাটিলেট কমে গিয়ে জটিলতা দেখা দিতে পারে।
দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর ডেঙ্গুর প্রভাব নতুন নয়। বিগত ২০২৫ সালেও ডেঙ্গু পরিস্থিতি বেশ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল। সরকারি তথ্যমতে, গত বছর দেশে মোট এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন এবং সর্বমোট ৪১৩ জন মারা যান। স্বাস্থ্য খাতের বিশ্লেষকদের মতে, বর্ষা মৌসুমে দ্রুত এডিস মশা নিধনে কার্যকরী ওষুধ ছিটানো এবং জমা পানি পরিষ্কারে সামাজিক সচেতনতা না বাড়ালে চলতি বছরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।