খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
ফেনীর পরশুরাম উপজেলার একটি বহুতল ভবনের বন্ধ ফ্ল্যাট থেকে ফারহানা আক্তার প্রিয়া নামে এক কিশোরী গৃহকর্মীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি রহস্যজনক হাতে লেখা চিরকুটও জব্দ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসা এই কিশোরীর আকস্মিক ও অস্বাভাবিক মৃত্যুতে স্থানীয় এলাকায় তীব্র শোক ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার সময়ক্রম ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মারফতে জানা যায়, পরশুরাম উপজেলা গেটের বিপরীত পাশে অবস্থিত ‘কাদের টাওয়ার’-এর তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বাস করেন মোশাররফ হোসেন তালুকদার এবং তাঁর স্ত্রী জাহেদা আক্তার। জাহেদা আক্তার স্থানীয় কেতরাঙ্গা মোহাম্মদপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত। নিহত কিশোরী ফারহানা আক্তার বিগত তিন বছর ধরে তাঁদের পরিবারে গৃহকর্মী হিসেবে অবস্থান করছিল।
ঘটনার দিন সকালে গৃহকর্মী ফারহানাকে যথারীতি বাসায় রেখে বিদ্যালয়ে চলে যান শিক্ষক জাহেদা আক্তার। পরবর্তীতে দায়িত্ব পালন শেষে সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে বেল বাজালেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া পাননি তিনি। বেশ কিছুক্ষণ চেষ্টা করে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে তিনি স্থানীয় প্রতিবেশীদের ডাকেন। পরবর্তীতে উপস্থিত লোকজনের উপস্থিতিতে কাঠের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করা হয়। বাসার একটি বেডরুমে সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় প্রিয়ার নিথর দেহ ঝুলতে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।
উদ্ধারকৃত চিরকুট ও তদন্ত প্রক্রিয়া
খবর পেয়ে পরশুরাম মডেল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। ঘর তল্লাশি করার সময় লাশের পাশ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করে আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়।
চিরকুটের বিষয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, চিরকুটে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে সরাসরি স্পষ্ট কিছু উল্লেখ না থাকলেও বেশ কিছু কথা লেখা রয়েছে। উদ্ধারকৃত হস্তলেখাটি আদেও নিহত কিশোরীর কি না এবং এটি স্বেচ্ছায় লেখা নাকি কোনো প্ররোচনার ফসল, তা প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও হস্তলেখা বিশেষজ্ঞদের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।
আইনি ব্যবস্থা ও পুলিশের বক্তব্য
নিহত ফারহানা আক্তার নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার সেবারহাট এলাকার সাইফুল ইসলামের কন্যা। সে জীবিকার তাগিদে তিন বছর আগে থেকে এই বাসায় কাজ শুরু করেছিল।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম জানান, পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষ করার পর ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ স্পষ্ট হবে। উদ্ধার হওয়া অন্যান্য আলামত ও পেছনের ঘটনা খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।