সিলেট বিভাগে হাম-নিউমোনিয়ায় সাত মাসে ১০৮ শিশুর মৃত্যু

সিলেট বিভাগে চলতি বছরের শুরু থেকে প্রায় সাত মাসে হাম ও নিউমোনিয়াজনিত জটিলতায় ১০৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে ৫৯১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ২২৯ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪৭ শিশুকে হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগের পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ জুলাই পর্যন্ত বিভাগে পরীক্ষার মাধ্যমে মোট ৫৯১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। জেলাভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে সুনামগঞ্জে। সেখানে ল্যাব পরীক্ষায় ৩০৭ জনের হাম ধরা পড়েছে। সিলেট জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৯৬ জন। হবিগঞ্জে ৬১ জনের মধ্যে দুজনের ক্ষেত্রে রুবেলা শনাক্ত হয়েছে। আর মৌলভীবাজারে হাম শনাক্ত হয়েছে ২৭ জনের শরীরে।

বিষয় সংখ্যা
ল্যাব পরীক্ষায় মোট হাম শনাক্ত ৫৯১ জন
সুনামগঞ্জে হাম শনাক্ত ৩০৭ জন
সিলেট জেলায় হাম শনাক্ত ১৯৬ জন
হবিগঞ্জে হাম শনাক্ত ৬১ জন
হবিগঞ্জে রুবেলা শনাক্ত ২ জন
মৌলভীবাজারে হাম শনাক্ত ২৭ জন
মোট শিশুমৃত্যু ১০৮ জন
নিশ্চিত হামে মৃত্যু ৪ জন
হাম উপসর্গ ও নিউমোনিয়ার জটিলতায় মৃত্যু ১০৪ জন
সুনামগঞ্জে মৃত্যু ৪৮ জন
সিলেট জেলায় মৃত্যু ৩৬ জন
মৌলভীবাজারে মৃত্যু ১৩ জন
হবিগঞ্জে মৃত্যু ১১ জন
বর্তমানে সন্দেহভাজন রোগী চিকিৎসাধীন ২২৯ জন
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি ৪৭ জন

স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো ল্যাব কনফার্মড হাম রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে হামসদৃশ উপসর্গ নিয়ে ৪৭ শিশুকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২৭ জন, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৫ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে তিনজন এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে দুজন ভর্তি হয়েছে। স্বস্তির বিষয় হলো, ওই সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে কোনো শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

বর্তমানে চিকিৎসাধীন ২২৯ সন্দেহভাজন রোগীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী রয়েছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে ৭৯ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন। শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৭২ জন। সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩০ জন। বাকি রোগীরা বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

মৃত্যুর পরিসংখ্যানেও সুনামগঞ্জ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এ পর্যন্ত জেলাটিতে ৪৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সিলেট জেলায় মারা গেছে ৩৬ জন, মৌলভীবাজারে ১৩ জন এবং হবিগঞ্জে ১১ জন। স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, মোট ১০৮ মৃত্যুর মধ্যে চারজনের মৃত্যু নিশ্চিত হামের কারণে হয়েছে। বাকি ১০৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামসদৃশ উপসর্গের সঙ্গে নিউমোনিয়ার জটিলতা তৈরি হওয়ার পর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সিলেট বিভাগের পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম জানান, বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত হাম উপসর্গ ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১০৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন করে ৪৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং বিভিন্ন হাসপাতালে ২২৯ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হাম সাধারণত শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং আক্রান্তদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়ার মতো জটিলতা দেখা দিলে পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠতে পারে। ফলে আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা এবং হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। সিলেট বিভাগের সর্বশেষ পরিস্থিতিতে বিপুলসংখ্যক শিশুর হাসপাতালে ভর্তি থাকা এবং মৃত্যুর ঘটনায় রোগী শনাক্তকরণ, চিকিৎসা ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যসেবার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।