খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
ঢাকার ধামরাইয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বাসের ধাক্কায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে উপজেলার ইসলামপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুজন হলেন আবাস সাহা ও সুজয় সাহা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে ইসলামপুর এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মূল লেনে একটি বাস যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। সড়কের ব্যস্ত অংশে বাসটি দাঁড়িয়ে থাকায় ওই এলাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। এর পেছনে থাকা কয়েকটি যানবাহনের মধ্যে পরপর ধাক্কা লাগে। এ সময় একটি বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলে থাকা আবাস সাহা ও সুজয় সাহা গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে আহত দুজনকে উদ্ধার করে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের দুজনেরই মৃত্যু হয়।
নিহত আবাস সাহা মানিকগঞ্জের দেবেন্দ্র কলেজের স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী ছিলেন। অন্যদিকে সুজয় সাহা মানিকগঞ্জের শিবালয় থানা এলাকার আশুতোষ সাহার ছেলে এবং তিনি উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার্থী ছিলেন। অল্প বয়সে দুই শিক্ষার্থীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সাভার হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। সাভার হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহাদাত হোসেন জানান, নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার পর আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মহাসড়কের মূল লেনে একটি বাস বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার পর পেছনে থাকা যানবাহনগুলোর মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুতগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে ব্যস্ত মহাসড়কে বিকল যানবাহন যথাযথভাবে সরিয়ে নেওয়া বা সতর্কসংকেত ব্যবস্থার ঘাটতি থাকলে পেছন থেকে আসা যান চালকদের জন্য বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক রাজধানী ঢাকার সঙ্গে সাভার, ধামরাই ও মানিকগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। প্রতিদিন এই মহাসড়কে বিপুলসংখ্যক যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী যান ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করে। ফলে মহাসড়কের কোনো অংশে একটি যান বিকল হয়ে মূল লেনে অবস্থান করলে দ্রুত যানজটের পাশাপাশি সংঘর্ষের আশঙ্কাও তৈরি হয়।
তবে এই দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ঠিক কী কারণে পেছনের যানবাহনগুলো একে অপরকে ধাক্কা দেয় এবং মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেওয়া বাসটির গতি কত ছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্টদের তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
দুই মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যুর ঘটনায় তাদের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ভার। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় ও স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ হস্তান্তরসহ আইনানুগ পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।