গাজী নজরুলকে বহিষ্কারে সিইসি ও স্পিকারকে জামায়াতের চিঠি
খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
আপত্তিকর একটি ব্যক্তিগত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলীয় তদন্তে তার বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে উল্লেখ করে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে দলটি। একই চিঠির অনুলিপি জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছেও দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার নির্বাচন কমিশনে গিয়ে সিইসির কাছে চিঠিটি পাঠান। চিঠিতে গাজী নজরুল ইসলামের বহিষ্কারের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার পাশাপাশি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জামায়াতের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও নিয়ে দলীয়ভাবে সাংগঠনিক তদন্ত করা হয়। সেই তদন্তের পর তার বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াতের গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারার বিধান অনুযায়ী তাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক তদন্তের ফলাফল এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে জানানো হয়েছে।
দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে আনার কারণ হিসেবে চিঠিতে গাজী নজরুল ইসলামের বহিষ্কারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছেও চিঠির অনুলিপি পাঠিয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে তার অবস্থানসংক্রান্ত বিষয়টি অবহিত করেছে জামায়াত।
গাজী নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং বিষয়টি দলীয় পর্যায়েও গুরুত্ব পায়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াতে ইসলামী বিষয়টি নিয়ে সাংগঠনিক তদন্তের উদ্যোগ নেয়। দলটির দাবি অনুযায়ী, তদন্ত শেষে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় গত ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরদিন, অর্থাৎ ২৩ জুলাই, সেই সিদ্ধান্তের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশন ও জাতীয় সংসদের স্পিকারকে জানানো হয়।
এখন নির্বাচন কমিশন ও সংসদীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিষয়টি কীভাবে বিবেচনা করা হবে, সেটিই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ, কোনো রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের পাশাপাশি একজন সংসদ সদস্যের পদ ও রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কর্তৃপক্ষের ভূমিকা রয়েছে। জামায়াতের চিঠিতে তাই দলীয় বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অনুরোধ করা হয়েছে।
তবে গাজী নজরুল ইসলামের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা চিঠির বিবরণে উল্লেখ নেই। ফলে দলীয় বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত এবং এর পরবর্তী প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ ঘিরে এখন রাজনৈতিক ও আইনগত পর্যায়ে বিষয়টি কীভাবে এগোয়, সেদিকেই নজর থাকবে।