খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপের হতাশা পেছনে ফেলে ঘরের চেনা আঙিনায় ফিরে প্রথম ম্যাচেই নিজের চেনা রুপ দেখিয়েছিলেন ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার। সান্তোসের জার্সিতে জোড়া গোল করে মাঠে দ্যুতি ছড়ালেও, ম্যাচের শেষটা তার জন্য মোটেই সুখকর হয়নি। মাঠের পারফরম্যান্সের সুসংবাদের পরপরই তাকে পেতে হলো নিষেধাজ্ঞার দুঃসংবাদ। আগামী ম্যাচে মাঠের বাইরেই কাটাতে হবে সান্তোসের এই আক্রমণভাগের কাণ্ডারিকে।
শাপকোয়েন্সের বিরুদ্ধে ম্যাচের শুরুটা সান্তোসের জন্য খুব একটা সহজ ছিল না। প্রথমার্ধে মাঠের খেলায় দল হিসেবে খাবি খেলেও নেইমারের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে স্বস্তি নিয়ে বিরতিতে যায় সান্তোস। সতীর্থ বারিয়ালের সাথে চমৎকার ওয়ান-টু-ওয়ান বোঝাপড়ায় দুর্দান্ত এক গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি। বিরতির পর অবশ্য চিত্র বদলে যায় দ্রুত। সুসংগঠিত ফুটবল খেলে পর পর দুই গোল আদায় করে নেয় সফরকারী শাপকোয়েন্স, ফলে উল্টো ২-১ গোলে পিছিয়ে পড়ে সান্তোস।
পরাজয়ের হাত থেকে বাঁচতে এবং অন্তত একটি পয়েন্ট নিশ্চিত করতে ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মরিয়া হয়ে লড়ে সান্তোস। আক্রমণের ধার বাড়ালেও প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভাঙতে তারা বারবার ব্যর্থ হচ্ছিল। অবশেষে ৮৯ মিনিটে ভাগ্য খোলে স্বাগতিকদের। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার ব্রুনো মাতিয়াস সান্তোস বক্সের ভেতরে ক্যাবায়েরোকে ফাউল করলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। ঠাণ্ডা মাথার স্পট কিকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে দলকে ২-২ ব্যবধানে সমতায় ফেরান নেইমার।
তবে গোলের আনন্দের মাঝেই ম্যাচের পুরোটা সময় ধরে রেফারির সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছিলেন ব্রাজিলিয়ান এই তারকা। প্রথমার্ধ থেকেই একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে রেফারির সাথে তর্ক করতে দেখা যায় তাকে। দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিপক্ষের ফুটবলার ব্রুনো তুবারা ফাউল করলে তা শেষ পর্যন্ত হাতাহাতি ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রেফারি দুজনকেই হলুদ কার্ড প্রদর্শন করেন।
ব্রাজিলিয়ান লিগের নিয়ম অনুযায়ী, ধারাবাহিকভাবে তিনটি হলুদ কার্ড দেখলে খেলোয়াড়কে পরবর্তী এক ম্যাচের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বহিষ্কার হতে হয়। নেইমার লিগে টানা তিন ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখার স্বাদ পেলেন, যার ফলে চলতি মৌসুমে তার মোট হলুদ কার্ডের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল ৬-এ। এটি চলতি মৌসুমে তার দ্বিতীয়বারের মতো কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞা। ইতিপূর্বেও কার্ডের বাধ্যবাধকতার কারণে তাকে এক ম্যাচ ডাগআউটে বসে কাটাতে হয়েছিল। এই নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী সাও পাওলোর বিরুদ্ধে সান্তোসের আসন্ন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামা হচ্ছে না নেইমারের।