খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মশা বাহিত এই জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন নারী এবং একজন পুরুষ। একই সময়ে নতুন করে সারাদেশে ৪৫৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর রোববার ডেঙ্গু পরিস্থিতি সংক্রান্ত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সর্বশেষ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সরকারি এই হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৩ জনে। এই মৃতদের মধ্যে ১৮ জন পুরুষ এবং ২৫ জন নারী। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ বছর ডেঙ্গুতে পুরুষদের তুলনায় নারী মৃত্যুর হার কিছুটা বেশি।
অন্যদিকে নতুন করে আক্রান্তদের নিয়ে এ বছর মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ১৩ হাজার ৯৮ জনে পৌঁছেছে। বছরের এই সময়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধিতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রতি বছর বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পরপরই দেশে এডিস মশার প্রজনন ও উপদ্রব মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। তবে এবার মৌসুমের শুরু থেকেই তুলনামূলকভাবে বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকাসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীর চাপ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সাধারণ জ্বর মনে করে অনেক রোগীই সময়মতো ডাক্তারের কাছে আসছেন না, যার ফলে শেষ মুহূর্তে রক্তে প্লাটিলেট কমে যাওয়া কিংবা শক সিন্ড্রোমে পড়ে তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করাই একমাত্র কার্যকর পথ। বসতবাড়ির আঙিনা, খোলা ছাদ, টব, টায়ার বা ড্রামে জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখা জরুরি। পাশাপাশি দিনে বা রাতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা এবং শরীরে মশা তাড়ানোর ক্রিম ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। হঠাৎ জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা (NS1 Antigien Test) করানোর আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু কর্নার চালুর পাশাপাশি বিনামূল্যে পরীক্ষার ব্যবস্থা ও চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ। সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সময়মতো মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার না করলে আগামী দিনগুলোতে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।