খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
বরিশালের হিজলা উপজেলায় মেঘনা নদীতে কালবৈশাখী ঝড়ের তীব্র কবলে পড়ে একটি যাত্রীবাহী ট্রলার ডুবে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। দুর্ঘটনায় এক স্কুল শিক্ষার্থী ও এক প্রবীণ ব্যক্তির প্রাণহানি ঘটেছে। ঘটনাটি আজ সকালে উপজেলার চরকিল্লা সংলগ্ন মেঘনা নদীর সীমানায় সংঘটিত হয়।
দুর্ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধার অভিযান: স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকাল আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে গোবিন্দপুর এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ সয়াবিন ফসল এবং চালকসহ মোট ১৪ জন আরোহী নিয়ে ট্রলারটি শাওড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। মেঘনা নদী পারাপারের সময় হঠাৎ করেই কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। ঝড়ের তাণ্ডব ও উত্তাল তরঙ্গের তোড়ে ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীর গভীরে ডুবে যায়।
দুর্ঘটনার পর পরই ট্রলারটির চালক ও ১১ জন যাত্রী নিজেদের প্রাণপণ চেষ্টায় সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও দুর্ভাগ্যবশত দুজন যাত্রী পানির প্রবল স্রোতে নিখোঁজ হন। খবর পেয়ে হিজলা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। স্থানীয় উদ্ধারকারী জেলেদের সক্রিয় সহায়তায় নদীতে তল্লাশি চালানো হয়। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর সকাল ১১টার দিকে প্রথম নিখোঁজ ব্যক্তি এবং বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দ্বিতীয় নিখোঁজ ব্যক্তির ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা।
নিহতদের পরিচয়: দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিরা হলেন—
আব্দুর রব বেপারী (৫৫): তিনি এলাকার একজন বয়োবৃদ্ধ বাসিন্দা।
রাজিব ভূঁইয়া (১৫): সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের বক্তব্য: বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) যুগ্ম পরিচালক আজমল হুদা মিঠু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ট্রলারটিতে সয়াবিন ফসলের পাশাপাশি অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই ছিল এবং আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের তীব্রতার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটে। বেশিরভাগ আরোহী সাঁতরে কূলে উঠলেও দুজন সলিলসমাধি বরণ করেন।
হিজলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অসীম কুমার সিকদার জানান, ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পরপরই পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয় সাহসী জেলেদের সহযোগিতায় আমরা সাড়ে তিন ঘণ্টার ব্যবধানে নিখোঁজ দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হই। নিহতদের পরিবারের নিকট আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথ ও স্থানীয় উদ্বেগ: উপকূলীয় আবহাওয়ায় বৈশাখী মৌসুমে মেঘনা নদী চরম বিপজ্জনক রূপ ধারণ করে। অতিরিক্ত পণ্য ও যাত্রী পরিবহন এবং পর্যাপ্ত জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম (লাইফ জ্যাকেট) না থাকার কারণে এ ধরনের ছোটখাটো ট্রলারগুলো প্রায়শই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হয়। মর্মান্তিক এই ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা নৌপথে সার্বিক নিরাপত্তা বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।