খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কাডুনা রাজ্যে সশস্ত্র বন্দুকধারীদের এক ভয়াবহ ও নির্মম হামলায় শিশুসহ অন্তত ৩০ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। সোমবার (২৭ জুলাই) মধ্যরাতের পর কাউরু এলাকার নারিডন গ্রামে প্রবেশ করে হামলাকারীরা এ নারকীয় তাণ্ডব চালায়। হঠাৎ ঘেরাও করে পুরো গ্রামে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। একই সঙ্গে বহু ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে ভীতিজনক পরিস্থিতি তৈরি করে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। ভয়াবহ এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন, যাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স স্থানীয় অধিবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতের অন্ধকারে গ্রামবাসী যখন ঘুমিয়ে ছিলেন, ঠিক তখনই অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত একদল বন্দুকধারী নারিডন গ্রামে হানা দেয়। গ্রামের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে তারা চারপাশ থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। অনেকে প্রাণ বাঁচাতে ঘরের বাইরে ছুটে এলে তাদেরকেও লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। কোনো কোনো বাসিন্দাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। হামলাকারীরা পালিয়ে যাওয়ার সময় একাধিক বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়, ফলে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বহু মানুষের শেষ সম্বল।
গ্রামপ্রধানের সচিব ডোগন রানা জানান, দুষ্কৃতকারীরা কোনো ধরনের উস্কানি ছাড়াই হঠাৎ গ্রামে ঢুকে নির্বিচারে এই হত্যাকাণ্ড চালায়। হতভাগা নিহতদের তালিকায় অন্তত আটজন অবুঝ শিশুও রয়েছে। এ ঘটনার পর গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনহারানো পরিবারগুলোর কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো গ্রামের পরিবেশ।
স্থানীয় যুবনেতা ইশায়া দাওয়া উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, গভীর রাতে কাউরু এলাকার নারিডন গ্রামে প্রবেশ করে তাণ্ডব চালিয়েছে বন্দুকধারীরা। নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু ও প্রবীণ নাগরিকরা রয়েছেন। নৃশংস কায়দায় তাদের হত্যা করার পর অপরাধীরা গ্রামে আগুন লাগিয়ে দেয়। সকালে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে কয়েকজনের মৃতদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়। তবে ঘটনার বহু ঘণ্টা পর সকালে পুলিশ সেখানে এসে পৌঁছায় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিম ও উত্তর-মধ্য অঞ্চলে গত কয়েক বছর ধরে এই ধরনের সশস্ত্র গ্যাং ও ডাকাত দলের আধিপত্য ব্যাপক হারে বেড়েছে। এসব অঞ্চল প্রায়ই জমি দখল, পশু চুরি, মুক্তিপণ আদায় এবং প্রতিশোধমূলক সহিংসতায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নিয়মিতভাবে সন্ত্রাসী সংগঠন বোকো হারাম ও ইসলামিক স্টেট ওয়েস্ট আফ্রিকা প্রভিন্স (আইএসডব্লিউএপি)-এর সশস্ত্র বিদ্রোহ চললেও, কাডুনা রাজ্যের এই সর্বশেষ হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা দল স্বীকার করেনি।
এ ঘটনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কাডুনা রাজ্য পুলিশের মুখপাত্র মনসুর হাসান জানান, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুতই গণমাধ্যমকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।